নয়াদিল্লি: আধার, ব্যাঙ্ক কিংবা অন্য কোনও ডিজিটাল পরিষেবা—পরিচয় যাচাই এখন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর সেই KYC করতেই গিয়ে এমন বিপাকে পড়লেন উত্তর-পূর্ব ভারতের এক যুবক, যে ভিডিয়ো দেখে হাসির রোল নেটমাধ্যমে। তবে হাসির আড়ালেই উঠে এসেছে প্রযুক্তির বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নজর কেড়েছেন নাগাল্যান্ডের মন্ত্রী তেমজেন ইমনা আলং।
ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, KYC-র জন্য মুখের ছবি তোলার চেষ্টা করছেন ওই যুবক। কিন্তু কোনও ভাবেই ‘ফেস ভেরিফিকেশন’ সম্পূর্ণ হচ্ছে না। বার বার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পরিচয়। কখনও মুখের অবস্থান বদলানো হচ্ছে, কখনও চোখ বড় করে খোলার চেষ্টা—তবু প্রযুক্তির তরফে যেন একটাই বার্তা, ‘‘মুখ শনাক্ত করা গেল না।’’
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পাশে থাকা কয়েক জনকেও তাঁকে সাহায্য করতে দেখা যায়। ভিডিয়োয় এক সময় তাঁর চোখের পাতা টেনে ধরে ক্যামেরার সামনে ঠিক ভাবে মুখ দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। KYC-এর মতো সাধারণ একটি কাজ করতে গিয়ে এমন কাণ্ড দেখে নেটমাধ্যমে শুরু হয় রসিকতা। আর সেই ভিডিয়োই শেয়ার করে মন্ত্রী তেমজেনের মন্তব্য, ‘‘Struggle is real’’।
ভিডিয়োটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বহু মানুষ সেটি শেয়ার করেন, মন্তব্যও করেন। কেউ ঘটনাটিকে নিছক মজার ঘটনা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—মুখ শনাক্তকরণের প্রযুক্তি কি দেশের সব ধরনের মানুষের শারীরিক বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখেই তৈরি?
মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় মানুষের মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। আলো, ক্যামেরার মান, মুখের অবস্থান কিংবা চোখের দৃশ্যমানতা—বিভিন্ন কারণেই কখনও এই প্রযুক্তি ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা তুলনামূলক বেশি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ।
সমাজমাধ্যমে কেউ কেউ বলেছেন, প্রযুক্তি কোনও ব্যক্তির স্বাভাবিক চেহারাকে ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখলে চলবে না। পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতিই এমন হওয়া উচিত, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য সমান গুরুত্ব পায়।
অনেকে আবার মুখ শনাক্তকরণ ব্যর্থ হলে বিকল্প বায়োমেট্রিক পদ্ধতি রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কোনও নাগরিক যেন ব্যাঙ্কিং বা সরকারি পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। ফেস ভেরিফিকেশন কাজ না করলে আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনও নিরাপদ পদ্ধতিতে যাচাইয়ের সুযোগ থাকা দরকার।
তবে ভিডিয়োটির আসল আকর্ষণ আপাতত তার হাস্যরসেই। KYC-এর মতো একঘেয়ে প্রক্রিয়া যে এমন ‘কমেডি’ তৈরি করতে পারে, তা দেখেই নেটমাধ্যমে মজার মন্তব্যের বন্যা। কিন্তু সেই মজার ভিডিয়োই একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল পরিষেবা যত বাড়বে, প্রযুক্তিকে তত বেশি ‘সবার জন্য’ উপযোগী করে তোলার প্রয়োজন।
মন্ত্রী তেমজেনের পোস্ট তাই শুধু একটি ভাইরাল ভিডিয়ো হয়ে থাকেনি। KYC করতে গিয়ে এক যুবকের এই ছোট্ট বিড়ম্বনা প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, অন্তর্ভুক্তি এবং বিকল্প পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।