নয়াদিল্লি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: লাদাখে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের বেঞ্চ বসানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপের ফলে দুর্গম ও প্রত্যন্ত লাদাখের সাধারণ মানুষের কাছে বিচারব্যবস্থা আরও সহজে পৌঁছবে। আইনি পরিষেবা পেতে এত দিন যে দূরত্ব এবং সময়ের বাধা পেরোতে হত, হাইকোর্টের বেঞ্চ চালু হলে তা অনেকটাই কমবে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে লাদাখে বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূরদর্শী নেতৃত্বে’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। লাদাখে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের বেঞ্চ বসানোর ফলে সেখানকার বাসিন্দারা নিজেদের প্রাপ্য আইনি পরিষেবা আরও দ্রুত এবং সহজে পেতে পারবেন।
বিশেষত ভৌগোলিক ভাবে দুর্গম এলাকাগুলির বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বেশি পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিচার সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াতের যে সমস্যা রয়েছে, স্থানীয় স্তরে হাইকোর্টের বেঞ্চ চালু হলে তার অনেকটাই সুরাহা হবে।
লাদাখের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের বাস্তব সমস্যা রয়েছে। বিস্তীর্ণ পার্বত্য অঞ্চল, দীর্ঘ যাত্রাপথ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া অনেক সময় আইনি পরিষেবা পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের বেঞ্চ বসানোর সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা লাদাখের নাগরিকদের বিচার পাওয়ার সময় কমাবে এবং আইনি পরিষেবার নাগাল বাড়াবে। ফলে মামলা সংক্রান্ত কাজকর্মে সাধারণ মানুষের সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনই বিচারব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগও আরও নিবিড় হবে।
পাশাপাশি লাদাখের সার্বিক উন্নয়ন এবং সেখানকার মানুষের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও কেন্দ্র সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, লাদাখের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র যে ভাবে একাধিক ক্ষেত্রে পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে জোরদার করছে, হাইকোর্টের বেঞ্চ চালুর সিদ্ধান্তও সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে লাদাখে বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং নাগরিকবান্ধব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ন্যায়বিচারের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।