নিউজ ডেস্ক: কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে আইনি জটিলতার মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চলা একটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল থাকবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ জানুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মহুয়ার বিরুদ্ধে নাদিয়া জেলার একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে একটি কথিত ‘হেট স্পিচ’ মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল। সেই মামলায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দেওয়ার বিষয়টিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
পরবর্তী সময়ে মহুয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়াকে কেন্দ্র করেও আইনি লড়াই তৈরি হয়। আগস্টে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই পরোয়ানা কার্যকর করার উপর সাময়িক সুরক্ষা দেয়। আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট মামলায় বিষয়টি আরও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। পরবর্তী নির্দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত বিষয়েও শুনানি এগোয়।
এর মধ্যেই মহুয়ার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আদালতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। কৃষ্ণনগর লোকসভা এলাকায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে। সেপ্টেম্বর মাসে তেহট্ট এলাকায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় মহুয়ার দিকে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর সাংসদের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মহুয়ার অভিযোগ ছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। যদিও দ্রুত শুনানির আবেদন আদালত গ্রহণ করেনি, তবে মামলাটি নিয়মিত তালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে বলে জানানো হয়। এর আগে তাঁর কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার জন্য পুলিশকর্মী দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এবার নতুন নির্দেশে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মহুয়ার নিরাপত্তা বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলায় অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষার মেয়াদ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল, অন্যদিকে কৃষ্ণনগরে তাঁর যাতায়াত ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও আদালতের নজরে থাকছে।
ঘটনাপ্রবাহের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মহুয়া মৈত্র সম্প্রতি নিজের সাংসদ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে বাধার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কৃষ্ণনগরে যাতায়াত এবং সাংসদ তহবিলের কাজ নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। এই অভিযোগ অবশ্য মহুয়ার নিজস্ব বক্তব্য; এর সত্যতা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
ফলে আগামী কয়েক মাস মহুয়া মৈত্রের জন্য আইনি দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ১৩ জানুয়ারির শুনানিতে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার আগে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর আইন ও রাজনৈতিক মহলের।
