নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন শিবিরের জন্য ফের বড় আইনি ধাক্কা। দলের চারটি ডেবিট-ফ্রিজ় করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে আবেদন করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই চারটি অ্যাকাউন্টে মোট ৮০০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে আপাতত ওই চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে তৃণমূলের মমতা-শিবির টাকা ব্যবহার করতে পারবে না।
এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের আবহে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি জুলাই মাসে তৃণমূলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার পদক্ষেপ নেয়। কলকাতা হাই কোর্টের নথি অনুযায়ী, ৭ জুলাই PMLA-এর ১৭(১এ) ধারায় ছ’টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর মধ্যে চারটি HDFC Bank এবং দু’টি ICICI Bank-এর অ্যাকাউন্ট ছিল।
এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করেছিল। ওই তিন অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে দৈনন্দিন খরচ, কর্মীদের বেতনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয়ের উপর নজরদারির ব্যবস্থা করেছিল। অর্থাৎ অ্যাকাউন্টগুলির টাকা সম্পূর্ণ অবাধে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পরবর্তী সময়ে চারটি অন্য অ্যাকাউন্ট নিয়েও মমতা-শিবির আদালতের দ্বারস্থ হয়। কলকাতা হাই কোর্ট সেই চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের জন্য অন্তর্বর্তী অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। ওই চার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, তিনটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দৈনন্দিন দলের খরচ চালানোর জন্য যে ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করা হয়েছে, তার পাশাপাশি আরও চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে আগের ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।
এই হাই কোর্টের অবস্থানের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতে যায় মমতা-নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে চারটি ডেবিট-ফ্রিজ় অ্যাকাউন্ট নিয়ে আপাতত হাই কোর্টের অবস্থানই বহাল থাকছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে মূল আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেল। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি কলকাতা হাই কোর্টে এখনও বিচারাধীন এবং অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার কারণ, তদন্তের উপাদান ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন নিয়ে আদালতে পরবর্তী শুনানি হতে পারে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে ‘balanced’ বলে উল্লেখ করে মূল বিষয়গুলি হাই কোর্টেই বিবেচনার সুযোগ রেখেছিল।
অতএব, ৮০০ কোটির বেশি টাকার চার অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজ়ই থাকছে। এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে, সেখানে তদন্তের অগ্রগতি ও দুই পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্টগুলির ভবিষ্যৎ ব্যবহারের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
