নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে বড় ধাক্কা। অক্টোবরের মাসের শুরুতেই বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের নতুন একধাক্কায় ৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে শহরে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের নতুন দাম গিয়ে দাঁড়াল ২,৯৫৪ টাকায়। তবে স্বস্তির খবর, আপাতত ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান এবং ক্যাটারিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হলেও সরাসরি প্রভাব পড়ছে না গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দামে।
নতুন মূল্যবৃদ্ধির জেরে কলকাতা-সহ দেশের একাধিক শহরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। দিল্লিতে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬২ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮১০ টাকা। মুম্বইয়ে নতুন দাম ২ হাজার ৭৪৭ টাকা। চেন্নাইয়ে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ টাকা। অন্যদিকে, পটনায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ৭১ টাকা ৫০ পয়সা। সেখানে এখন একটি ১৯ কেজির সিলিন্ডার কিনতে খরচ হবে ৩১০০ টাকা ৫০ পয়সা। লখনউয়েও সিলিন্ডার পিছু ৬২ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছে। ২৮৭০ টাকা থেকে বেড়ে নতুন দাম ২৯৩২.৫০ টাকা।
কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ২৯৫৪ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে, গৃহস্থের ব্যবহারের ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কলকাতায় ৯৬৮ টাকাই রয়েছে। দিল্লিতে গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা এবং মুম্বইয়ে ৯৪১ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লেও সাধারণ পরিবারের রান্নার খরচে এখনই বাড়তি চাপ পড়ছে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছর এপ্রিল মাসে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বেড়ে হয়েছিল ২১৯ টাকা ৫০ পয়সা। মে মাসে এক ধাক্কায় দাম বাড়ে ৯৯৪ টাকা। জুনেও ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে হয় ৩ হাজার ২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর পরপর ২ মাস দাম কমেছিল। জুলাইয়ে ১৭৪ টাকা কমে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম হয় ৩ হাজার ৮১ টাকা ৫০ পয়সা। অগাস্টে আরও ২০৯ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৭২ টাকা।
সেপ্টেম্বর মাসেও বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তার পরের মাসেই ফের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। দুর্গাপুজো-সহ একাধিক উৎসবের মরশুমে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ক্যাটারিং ব্যবসায় গ্যাসের চাহিদা বাড়ে। সেই সময় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলির পরিচালন খরচ বাড়তে পারে। তবে এই বাড়তি খরচের প্রভাব খাবারের দামে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তের উপর।
