JAZZBAAT 24 BANGLA
০১ অক্টো ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
Breaking
KBC 18: বাঁ হাঁটুতে চোট নিয়েই চালিয়ে গেলেন শুটিং- ‘বিগ-বি’ DogRescue: বন্ধুর আর্তনাদে সাড়া, পাথরের নিচে চাপা পথকুকুরকে বাঁচিয়ে মানবতার নজির পথচারীদের ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ছুরির কোপ, ক্যাপ্টেন স্মিথ মচ্ছরের পরিবারকে ফোন প্রধানমন্ত্রীর Mahatma Gandhi: যেদিন গান্ধীজির কণ্ঠ থেমে যেত! প্রতি সপ্তাহে কেন পালন করতেন ‘নীরবতার দিন’? Durga Pujo: দুর্গাপুজো বনাম নবরাত্রি—একই দেবী, দুই ভিন্ন উৎসব? LPG: অক্টোবরের শুরুতেই বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম, কলকাতায় কত? Hindukush Earthquake: ভোরবেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল আফগানিস্তানের বিস্তৃর্ণ অঞ্চল FlyDubai: 'আপনি সত্যি হিরো', ১৭৪ প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা মোদীর KBC 18: বাঁ হাঁটুতে চোট নিয়েই চালিয়ে গেলেন শুটিং- ‘বিগ-বি’ DogRescue: বন্ধুর আর্তনাদে সাড়া, পাথরের নিচে চাপা পথকুকুরকে বাঁচিয়ে মানবতার নজির পথচারীদের ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ছুরির কোপ, ক্যাপ্টেন স্মিথ মচ্ছরের পরিবারকে ফোন প্রধানমন্ত্রীর Mahatma Gandhi: যেদিন গান্ধীজির কণ্ঠ থেমে যেত! প্রতি সপ্তাহে কেন পালন করতেন ‘নীরবতার দিন’? Durga Pujo: দুর্গাপুজো বনাম নবরাত্রি—একই দেবী, দুই ভিন্ন উৎসব? LPG: অক্টোবরের শুরুতেই বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম, কলকাতায় কত? Hindukush Earthquake: ভোরবেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল আফগানিস্তানের বিস্তৃর্ণ অঞ্চল FlyDubai: 'আপনি সত্যি হিরো', ১৭৪ প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা মোদীর

Mahatma Gandhi: যেদিন গান্ধীজির কণ্ঠ থেমে যেত! প্রতি সপ্তাহে কেন পালন করতেন ‘নীরবতার দিন’?

Mahatma Gandhi: যেদিন গান্ধীজির কণ্ঠ থেমে যেত! প্রতি সপ্তাহে কেন পালন করতেন ‘নীরবতার দিন’?
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাত্মা গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সত্যাগ্রহ, অহিংসা এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অসংখ্য অধ্যায়। তাঁর একটি বক্তব্য শুনতে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত, তাঁর একটি আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনের পথে নেমে পড়ত। অথচ এই মানুষটির জীবনেই ছিল এমন একটি দিন, যেদিন তিনি ইচ্ছা করেই নিজের কণ্ঠকে থামিয়ে রাখতেন। সপ্তাহের প্রতি সোমবার ছিল গান্ধীজির নীরবতার দিন। সেদিন তিনি সাধারণত মুখে কথা বলতেন না। প্রয়োজন হলে কাগজে লিখে উত্তর দিতেন। আজকের দিনে বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও, গান্ধীজির কাছে এটি ছিল নিছক কোনও বিচিত্র অভ্যাস নয়। এর পিছনে ছিল তাঁর ব্যস্ত জীবন থেকে সামান্য বিরতি নেওয়া, নিজের চিন্তাকে গুছিয়ে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আত্মসংযম ও আত্মমননের একটি বিশেষ অনুশীলন তৈরি করা।

গান্ধীজির জীবনের প্রতিটি দিনই ছিল নানা কাজে পরিপূর্ণ। কখনও তিনি দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করছেন, কখনও মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, কখনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন, আবার কখনও অসংখ্য চিঠির উত্তর দিচ্ছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তাঁর কাছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসতেন নিজেদের সমস্যা, দাবি কিংবা পরামর্শ নিয়ে। এই লাগাতার ব্যস্ততার মধ্যে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানুষের সঙ্গে কথা বলা যেমন প্রয়োজন, তেমনই মাঝে মাঝে নিজের জন্য কিছুটা নীরব সময় রাখাও জরুরি। তাঁর সাপ্তাহিক নীরবতার অভ্যাসের শুরুতে এই বিশ্রামের প্রয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোমবারের এই নীরবতা তাঁর কাছে শুধুমাত্র শরীর ও মনের বিশ্রামের দিন থাকেনি; বরং এটি হয়ে উঠেছিল নিজের সঙ্গে কথা বলার, চিন্তাভাবনা করার এবং আত্মশৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি বিশেষ সময়।

তবে গান্ধীজির নীরবতার দিন মানেই তিনি সারাদিন বসে থাকতেন বা সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিতেন, বিষয়টি একেবারেই এমন ছিল না। বরং নীরবতার মধ্যেও তাঁর কাজ চলত স্বাভাবিক নিয়মে। তিনি চিঠি লিখতেন, পড়াশোনা করতেন, নিজের বক্তব্য লিখে জানাতেন এবং প্রয়োজনীয় কাজ করতেন। কারও সঙ্গে জরুরি কথা বলার প্রয়োজন হলে তিনি মুখে উত্তর না দিয়ে কাগজে লিখে যোগাযোগ করতেন। অর্থাৎ, তাঁর নীরবতা ছিল কাজ থেকে সরে দাঁড়ানো নয়,  বরং কথার ব্যবহার থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া। এই বিষয়টিই তাঁর নীরবতার অভ্যাসকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, কথা না বলেও কাজ করা যায়, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায় এবং নিজের দায়িত্ব পালন করা যায়। তাঁর কাছে নীরবতা ছিল এক ধরনের সচেতন সিদ্ধান্ত, যেখানে মুখের শব্দ কমে যায়, কিন্তু চিন্তা ও কাজ থেমে যায় না।

এই নীরবতার সঙ্গে ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছিল গান্ধীজির আত্মমনন ও সত্যের অনুসন্ধান। তাঁর দর্শনে সত্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি মনে করতেন, একজন মানুষ যদি সত্যের পথে চলতে চান, তাহলে শুধু বাইরের পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা করলেই হবে না, তাঁকে নিজের ভিতরের দিকটিকেও চিনতে হবে। মানুষের মনে প্রতিদিন নানা চিন্তা, আবেগ, রাগ, অভিমান, দ্বন্দ্ব এবং সিদ্ধান্তের জন্ম হয়। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা সেগুলিকে নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ পাই না। গান্ধীজির নীরবতা তাঁকে সেই সুযোগ করে দিত। বাইরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে তিনি নিজের চিন্তাভাবনাকে পর্যালোচনা করতে পারতেন। তাই তাঁর কাছে নীরবতা ধীরে ধীরে একটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনে পরিণত হয়েছিল। তাঁর ধারণায়, সবসময় কথা বলার চেয়ে কখনও কখনও চুপ করে থাকা মানুষকে নিজের ভুল, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের উদ্দেশ্যকে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করতে পারে।

গান্ধীজির এই অভ্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, একজন জননেতা হয়েও তিনি বুঝেছিলেন যে সবসময় কথা বলাই শক্তির প্রমাণ নয়। তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে মানুষের সামনে কথা বলে, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে। কিন্তু সেই মানুষটিই সপ্তাহে একটি দিন নিজের কণ্ঠকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দিতেন। তাঁর নীরবতা কোনও দুর্বলতার চিহ্ন ছিল না; বরং ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি প্রকাশ। চারপাশে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা, মতবিরোধ এবং নানা ধরনের চাপ থাকত, তখন নিজের জন্য কিছুটা নীরব সময় তৈরি করার ক্ষমতাও তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। তিনি বুঝেছিলেন, কথা বলার আগে ভাবা যেমন জরুরি, তেমনই কখন কথা না বলাই ভালো, সেটি বুঝতেও আত্মসংযম প্রয়োজন। আর সেই কারণেই তাঁর নীরব সোমবার তাঁর জীবনদর্শনের সঙ্গে ধীরে ধীরে গভীরভাবে জড়িয়ে যায়।

আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে গান্ধীজির এই নীরবতার অভ্যাসকে আরও অন্যভাবে দেখা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের চারপাশে সারাক্ষণ শব্দ, মোবাইলের নোটিফিকেশন, ফোনকল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, খবর, ভিডিও, মন্তব্য এবং অসংখ্য মতামত। আমরা প্রতিদিন অনেক কিছু শুনি এবং আরও বেশি কিছু বলি। কিন্তু নিজের সঙ্গে কিছুক্ষণ নীরবে থাকার সময় হয়তো খুব কমই বের করি। সেই জায়গা থেকেই গান্ধীজির নীরব সোমবারের গল্প আজও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাঁর অভ্যাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি কথার উত্তর দেওয়া জরুরি নয়, প্রতিটি বিতর্কে অংশ নেওয়াও প্রয়োজনীয় নয়। কখনও কখনও একটু থেমে যাওয়া, চুপ করে থাকা এবং নিজের চিন্তাগুলোকে শুনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। গান্ধীজির নীরবতার আসল সৌন্দর্য সম্ভবত এখানেই, তিনি শুধু মানুষকে কথা বলার শক্তি দেখাননি, প্রয়োজনের সময়ে নীরব থাকার শক্তির কথাও বুঝিয়েছিলেন। যে মানুষটির কণ্ঠ একসময় লক্ষ লক্ষ মানুষকে আন্দোলিত করেছিল, তিনিই জানতেন, কখন কথা বলতে হয়, আর কখন নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গভীর ভাষা।

বিজ্ঞাপনAdi Mohini Mohan Kanjilal
62 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

গান্ধীজি কি সত্যিই চা-কফি খেতেন না? তাঁর খাবারের অভ্যাস কেমন ছিল?
গান্ধীভাবনা

গান্ধীজি কি সত্যিই চা-কফি খেতেন না? তাঁর খাবারের অভ্যাস কেমন ছিল?

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাত্মা গান্ধীর জীবনযাত্রার কথা উঠলেই তাঁর সরল পোশাক, চরকা, উপবাস এবং নিরামিষ খাবারের কথা মনে আসে। কিন্তু তাঁর খাদ্যাভ্যাসের গল্পটি আসলে আরও বৈচিত্র্যময়। গান্ধীজি ছোটবেলা থেকেই নিরামিষ খাবারের পরিবেশে বড...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ০৯:২১ পিএম · 4 মিনিট
গান্ধীজি কেন পরতেন মাত্র এক টুকরো কাপড়? নেপথ্যের কাহিনি জানলে অবাক হবেন
গান্ধীভাবনা

গান্ধীজি কেন পরতেন মাত্র এক টুকরো কাপড়? নেপথ্যের কাহিনি জানলে অবাক হবেন

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাত্মা গান্ধীকে চোখ বন্ধ করে কল্পনা করলেই যে ছবিটি সবচেয়ে আগে ভেসে ওঠে, তার মধ্যে অন্যতম হল তাঁর সরল পোশাক, কোমরে জড়ানো সাদা খদ্দরের কাপড়, কখনও তার সঙ্গে একটি চাদর, হাতে লাঠি এবং মুখে শান্ত অথচ দৃঢ় অ...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম · 5 মিনিট
গান্ধীজির ৫টি শিক্ষা, যা আজকের প্রজন্মের জীবনেও প্রাসঙ্গিক
গান্ধীভাবনা

গান্ধীজির ৫টি শিক্ষা, যা আজকের প্রজন্মের জীবনেও প্রাসঙ্গিক

নিউজ ডেস্ক: মহাত্মা গান্ধীর জীবন শুধু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, তাঁর জীবনদর্শন আজও ব্যক্তি ও সমাজজীবনের জন্য এক গভীর শিক্ষার উৎস। সত্য, অহিংসা, আত্মনির্ভরতা, সরল জীবনযাপন এবং মানবসে...

২২ সেপ্টে ২০২৬, ০৬:১০ পিএম · 3 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.