নয়াদিল্লি, নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত: ২ অক্টোবর মানেই দেশজুড়ে মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ করার দিন। ১৮৬৯ সালের এই দিনেই গুজরাতের পোরবন্দরে জন্মেছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে সত্যাগ্রহ, অহিংসা এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের সঙ্গে। প্রতি বছর তাঁর জন্মদিন গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। একই সঙ্গে দিনটি আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসাবেও পরিচিত।
গান্ধীর জীবন ও দর্শনের কেন্দ্রে ছিল সত্য এবং অহিংসা। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি অস্ত্রের বদলে বেছে নিয়েছিলেন অসহযোগ, আইন অমান্য এবং সত্যাগ্রহের পথ। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষও ব্যাপক ভাবে যুক্ত হয়েছিলেন।
তাই গান্ধী জয়ন্তী শুধুমাত্র একটি জন্মদিন উদ্যাপনের দিন নয়। তাঁর চিন্তা, জীবনদর্শন এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবারও দিন। হিংসার বদলে শান্তি, বিদ্বেষের বদলে সহনশীলতা এবং অসত্যের বদলে সত্যকে বেছে নেওয়ার বার্তাই এই দিনের মূল সুর।
প্রিয়জনকে গান্ধী জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাতে লেখা যেতে পারে, “সত্যের পথে চলার সাহস, অহিংসার পথে থাকার শক্তি এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের জীবনে আরও গভীর হোক। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ আমাদের প্রতিদিনের পথচলায় অনুপ্রেরণা দিক। শুভ গান্ধী জয়ন্তী।”
বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের জন্য আরও সহজ করে লেখা যায়, “বাপুর জন্মদিনে শপথ হোক, মিথ্যার বদলে সত্যকে, হিংসার বদলে শান্তিকে এবং ঘৃণার বদলে মানবিকতাকে বেছে নেব। গান্ধীজির আদর্শ আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলুক। শুভ গান্ধী জয়ন্তী।”
আরও একটি বার্তা হতে পারে, “পরিবর্তনের জন্য সব সময় শক্তির প্রয়োজন হয় না। সত্য, ধৈর্য এবং অহিংসার পথও সমাজকে বদলে দিতে পারে—গান্ধীজির জীবন তারই উদাহরণ। তাঁর আদর্শ আমাদের আগামী দিনের পথ দেখাক। শুভ গান্ধী জয়ন্তী।”
২ অক্টোবরের গুরুত্ব ভারতের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গান্ধীর অহিংসার দর্শনকে সম্মান জানিয়ে এই দিনটি আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসাবেও পালিত হয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
আজকের দিনে তাই গান্ধীকে স্মরণ করার অর্থ শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর দেখানো সত্য, অহিংসা, সহনশীলতা এবং মানবিকতার মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে কতটা জায়গা দেওয়া যায়, সেই প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে আসে। ২ অক্টোবর সেই আত্মসমীক্ষারও দিন।