JAZZBAAT 24 BANGLA
০২ অক্টো ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
Breaking
রাতের অন্ধকারে ৩ মুখোশধারী! গ্যারেজে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর, বিস্ফোরক অভিযোগ অতনু দাসের Delhi: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লির যন্তরমন্তর, জারি ১৬৩ ধারা Gandhi Jayanti : ১৯৪৬-এ গান্ধীকে দেখতে ছুটেছিল কয়েক হাজার মানুষ, চলেছিল স্পেশাল ট্রেন! ১২৫ দিনের কাজে বঞ্চিত ১ কোটি ২৬ লক্ষ জবকার্ডধারী! Lovlina Borgohain: জন্মদিনেই সোনা! এশিয়াডে ১২ বছরের খরা কাটিয়ে ইতিহাস ভারতীয় বক্সারের Gandhi Jayanti : সত্য-অহিংসার বার্তা, জানুন গান্ধী জয়ন্তীর ইতিহাস Cockpit: মাঝ আকাশে ককপিটে রক্তাক্ত ভারতীয় পাইলট, ভিডিয়োয় ভয়াবহ দৃশ্য Abhijeet Dipke: মেরিন ড্রাইভ থেকে থানায় অভিজিৎ দীপকে, চাঞ্চল্য মুম্বাইতে! রাতের অন্ধকারে ৩ মুখোশধারী! গ্যারেজে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর, বিস্ফোরক অভিযোগ অতনু দাসের Delhi: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লির যন্তরমন্তর, জারি ১৬৩ ধারা Gandhi Jayanti : ১৯৪৬-এ গান্ধীকে দেখতে ছুটেছিল কয়েক হাজার মানুষ, চলেছিল স্পেশাল ট্রেন! ১২৫ দিনের কাজে বঞ্চিত ১ কোটি ২৬ লক্ষ জবকার্ডধারী! Lovlina Borgohain: জন্মদিনেই সোনা! এশিয়াডে ১২ বছরের খরা কাটিয়ে ইতিহাস ভারতীয় বক্সারের Gandhi Jayanti : সত্য-অহিংসার বার্তা, জানুন গান্ধী জয়ন্তীর ইতিহাস Cockpit: মাঝ আকাশে ককপিটে রক্তাক্ত ভারতীয় পাইলট, ভিডিয়োয় ভয়াবহ দৃশ্য Abhijeet Dipke: মেরিন ড্রাইভ থেকে থানায় অভিজিৎ দীপকে, চাঞ্চল্য মুম্বাইতে!

Gandhi Jayanti : ১৯৪৬-এ গান্ধীকে দেখতে ছুটেছিল কয়েক হাজার মানুষ, চলেছিল স্পেশাল ট্রেন!

Gandhi Jayanti : ১৯৪৬-এ গান্ধীকে দেখতে ছুটেছিল কয়েক হাজার মানুষ, চলেছিল স্পেশাল ট্রেন!
গান্ধী জয়ন্তীর বিশেষ ট্রেন ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯৪৬ সাল। ভারতের স্বাধীনতা তখন আর খুব দূরে নয়, কিন্তু স্বাধীনতার ঠিক আগের এই সময়টিই ছিল উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অস্থির অধ্যায়। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। কলকাতা ও বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, হিংসা, খাদ্যসংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এমন এক সময়েই মহাত্মা গান্ধী বাংলায় এসে পৌঁছন। তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নয়, বরং হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছনো, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। কলকাতার কাছে সোদপুর খদ্দর প্রতিষ্ঠানে তিনি অবস্থান নেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সন্ধ্যার প্রার্থনা সভা। গান্ধী হেরিটেজ পোর্টালের ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, সোদপুরে তাঁর প্রথম দিকের প্রার্থনা সভাতেই প্রায় ৫,০০০ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর দিন যত এগোয়, তাঁর প্রার্থনা সভাকে কেন্দ্র করে মানুষের আগ্রহ ও উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ সোদপুরে আসতে শুরু করেন কেউ তাঁর বক্তব্য শুনতে, কেউ শান্তির বার্তা পেতে, আবার কেউ হয়তো জীবনে শেষবারের মতো হলেও তাঁকে নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন।

এই জনসমাগমের ব্যাপ্তি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে মানুষ যাতে কলকাতা থেকে সোদপুরে গিয়ে গান্ধীজির সন্ধ্যার প্রার্থনা সভায় অংশ নিতে পারেন, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ৬ ডিসেম্বর ১৯৪৬ থেকে Bengal-Assam Railway সিয়ালদহ থেকে সোদপুরের উদ্দেশে একটি Special Train চালানোর ব্যবস্থা করে। আজকের দিনে কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিপুল জনসমাগম হলে তার ছবি, ভিডিও কিংবা খবর মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে; কিন্তু ১৯৪৬ সালের ভারত ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতার মধ্যে। তখন মানুষের হাতে ছিল না মোবাইল ফোন, ছিল না টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার, ছিল না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সংবাদপত্র, সভা-সমিতি, প্রচার এবং মানুষের মুখে মুখেই খবর ছড়িয়ে পড়ত। সেই সময়েও গান্ধীজির প্রার্থনা সভায় যোগ দিতে এত বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল যে তাঁদের যাতায়াতের জন্য আলাদা ট্রেনের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল, এই তথ্যই সেই সময়ের জনআকর্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য দলিল হয়ে রয়েছে।

কিন্তু এই ভিড়কে শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে দেখার কৌতূহল হিসেবে দেখলে ১৯৪৬-এর বাংলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। গান্ধীজি যখন বাংলায় এসেছিলেন, তখন মানুষের মনে ছিল গভীর ভয় এবং অনিশ্চয়তা। ১৯৪৬ সালের কলকাতার সাম্প্রদায়িক হিংসার স্মৃতি তখনও অত্যন্ত তাজা। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলেও উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থায় গান্ধীজি মানুষের কাছে যে বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল শান্তি, সম্প্রীতি, আত্মসংযম এবং মানবিকতা। তাঁর সন্ধ্যার প্রার্থনা সভাগুলি তাই শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না, সেখানে তিনি মানুষের দুর্দশা, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং হিংসার বিরুদ্ধে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতেন। তাঁর কাছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই সোদপুরে অবস্থান করেও তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজনৈতিক নেতা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকরাও আসতেন। ফলে সোদপুর সেই সময় কলকাতা ও বাংলার রাজনৈতিক-সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

আজ প্রায় আট দশক পরে সিয়ালদহ থেকে সোদপুরের সেই Special Train-এর কথা ভাবলে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি রেল পরিষেবার তথ্য বলে মনে হয় না। এটি আসলে ১৯৪৬ সালের বাংলার একটি বিশেষ সময়কে চোখের সামনে তুলে ধরে, একদিকে স্বাধীনতার অপেক্ষা, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা; একদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে শান্তির জন্য সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা। সেই সময় হাজার হাজার মানুষ একজন নেতার কাছে পৌঁছতে রেলপথে সোদপুরের দিকে ছুটেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রত্যেকের উদ্দেশ্য এক ছিল না, প্রত্যেকের রাজনৈতিক মতও হয়তো এক ছিল না; কিন্তু গান্ধীজির প্রার্থনা সভাকে ঘিরে যে বিপুল জনসমাগম তৈরি হয়েছিল, তা নিঃসন্দেহে সেই সময়ের সামাজিক আবহের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। আর সেই জনসমাগমের বাস্তব প্রমাণগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে রয়েছে রেলওয়ের Special Train-এর ব্যবস্থা।

ইতিহাসের বড় ঘটনাগুলি অনেক সময় যুদ্ধ, চুক্তি, আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু কখনও কখনও একটি ছোট্ট তথ্যও সেই সময়ের সমাজকে বুঝতে সাহায্য করে। সিয়ালদহ থেকে সোদপুরে Special Train চালানোর ঘটনাটিও তেমনই একটি তথ্য। কারণ একটি রেল পরিষেবা আমাদের জানিয়ে দেয়, ১৯৪৬ সালের সেই অস্থির বাংলায় গান্ধীজির সঙ্গে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। স্বাধীনতার ঠিক আগে কলকাতার সেই দিনগুলিতে সোদপুরের দিকে ছুটে যাওয়া ট্রেনের কামরা গুলিতে শুধু যাত্রী ছিলেন না ছিলেন এক অস্থির সময়ের মানুষ, যাঁরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রত্যক্ষ অংশ হয়ে উঠেছিলেন।

বিজ্ঞাপনAdi Mohini Mohan Kanjilal
16 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

Gandhi Jayanti : সত্য-অহিংসার বার্তা, জানুন গান্ধী জয়ন্তীর ইতিহাস
গান্ধীভাবনা

Gandhi Jayanti : সত্য-অহিংসার বার্তা, জানুন গান্ধী জয়ন্তীর ইতিহাস

নয়াদিল্লি, নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত: ২ অক্টোবর মানেই দেশজুড়ে মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ করার দিন। ১৮৬৯ সালের এই দিনেই গুজরাতের পোরবন্দরে জন্মেছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে ...

০২ অক্টো ২০২৬, ১০:৩৪ এএম · 2 মিনিট
Mahatma Gandhi: যেদিন গান্ধীজির কণ্ঠ থেমে যেত! প্রতি সপ্তাহে কেন পালন করতেন ‘নীরবতার দিন’?
গান্ধীভাবনা

Mahatma Gandhi: যেদিন গান্ধীজির কণ্ঠ থেমে যেত! প্রতি সপ্তাহে কেন পালন করতেন ‘নীরবত...

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাত্মা গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সত্যাগ্রহ, অহিংসা এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অসংখ্য অধ্যায়। তাঁর একটি বক্তব্য শুনতে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ক...

০১ অক্টো ২০২৬, ১১:২৫ এএম · 4 মিনিট
গান্ধীজি কি সত্যিই চা-কফি খেতেন না? তাঁর খাবারের অভ্যাস কেমন ছিল?
গান্ধীভাবনা

গান্ধীজি কি সত্যিই চা-কফি খেতেন না? তাঁর খাবারের অভ্যাস কেমন ছিল?

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাত্মা গান্ধীর জীবনযাত্রার কথা উঠলেই তাঁর সরল পোশাক, চরকা, উপবাস এবং নিরামিষ খাবারের কথা মনে আসে। কিন্তু তাঁর খাদ্যাভ্যাসের গল্পটি আসলে আরও বৈচিত্র্যময়। গান্ধীজি ছোটবেলা থেকেই নিরামিষ খাবারের পরিবেশে বড...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ০৯:২১ পিএম · 4 মিনিট
গান্ধীজি কেন পরতেন মাত্র এক টুকরো কাপড়? নেপথ্যের কাহিনি জানলে অবাক হবেন
গান্ধীভাবনা

গান্ধীজি কেন পরতেন মাত্র এক টুকরো কাপড়? নেপথ্যের কাহিনি জানলে অবাক হবেন

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাত্মা গান্ধীকে চোখ বন্ধ করে কল্পনা করলেই যে ছবিটি সবচেয়ে আগে ভেসে ওঠে, তার মধ্যে অন্যতম হল তাঁর সরল পোশাক, কোমরে জড়ানো সাদা খদ্দরের কাপড়, কখনও তার সঙ্গে একটি চাদর, হাতে লাঠি এবং মুখে শান্ত অথচ দৃঢ় অ...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম · 5 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.