কলকাতা: ভোটের ফলের ধাক্কা সামলে এ বার ফের জেলা সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করবেন তৃণমূলনেত্রী। বিধানসভা নির্বাচনের পরে এই প্রথম বড় কোনও জেলা কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়া। ফলে মমতার বক্তব্যের পাশাপাশি সভায় কতটা জমায়েত হয়, জেলা সংগঠন কতটা সক্রিয় ভাবে কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামাতে পারে, সে দিকেও নজর থাকবে কালীঘাট শিবিরের।
সভা ঘিরে অবশ্য শুরু থেকেই একের পর এক ঝক্কি। কর্মসূচির অনুমতি এবং সভাস্থল ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। বিষয়টি গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে সভার পথ খুললেও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনেই কর্মসূচি করতে হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ মেনে সভা সুষ্ঠু ভাবে শেষ করাও তৃণমূলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে মমতার এই সভাকে শুধু নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না দলের অন্দরমহল। ভোটের ফলের পরে তৃণমূলের জেলা সংগঠন কতটা সক্রিয়, কর্মীদের মধ্যে কতটা উৎসাহ রয়েছে এবং নেতৃত্বের ডাকে তাঁরা কতটা সাড়া দিচ্ছেন—শ্রীরামপুরের মাঠে তারও একটি ছবি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে ভোটের পরে দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নানা স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোথাও কর্মীদের মনোবল, কোথাও জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা, আবার কোথাও নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে কী ভাবে সক্রিয় রাখা হবে—এই সমস্ত প্রশ্নের মধ্যেই মমতার জেলা সফর শুরু হচ্ছে। ফলে শ্রীরামপুরের সভায় শুধু বক্তৃতা শুনতেই নয়, মমতার সঙ্গে দলের কর্মী-সমর্থকদের সরাসরি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সভাস্থল নিয়ে আইনি টানাপড়েনের মধ্যেই প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় এবং শর্ত মেনে সভা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফেও নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা থাকছে।
মমতার বক্তব্য ঘিরেও প্রত্যাশা রয়েছে। ভোটের ফলের পরে এটাই তাঁর প্রথম বড় জেলা মঞ্চ। ফলে দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি কী বার্তা দেন, আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা কী ভাবে তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে মাঠে নামাতে কী নির্দেশ দেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে তৃণমূলের অন্দরেও।
তবে মমতা কী বলবেন, তার থেকেও আপাতত কালীঘাটের কাছে অন্য একটি হিসাব গুরুত্বপূর্ণ—মাঠে কত মানুষ আসেন। ভোটের পরে প্রথম জেলা কর্মসূচিতে জমায়েতের ছবি সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দলের নেতৃত্বকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। আদালতের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের মধ্যেই কতটা বড় জমায়েত করা সম্ভব হয়, সেটিও নজরে থাকবে।
কারণ এই সভা শুধু শ্রীরামপুরের কর্মসূচি নয়। ভোটের পরে জেলা স্তরে তৃণমূলের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কতটা ফিরছে, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নেতৃত্বের যোগাযোগ কতটা অটুট রয়েছে এবং নতুন পরিস্থিতিতে কালীঘাট কত দ্রুত সংগঠনকে ফের রাস্তায় নামাতে পারে—তারও প্রথম দৃশ্যপট তৈরি হতে চলেছে শনিবার। আর সেই কারণেই মমতার শ্রীরামপুরের সভায় নজর শুধু হুগলিতে নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
