কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ্মভূষণ দেওয়ার দাবি তুললেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হিংসা ও ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা ভয় বা বাধা ছাড়াই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। সেই কারণেই জ্ঞানেশ কুমারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর অন্তত পদ্মভূষণ পাওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন নির্বাচন এর আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে।
নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শমীকের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এই দাবিটি অবশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই এসেছে।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এমন প্রশংসা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই আপত্তিগুলির মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় ছিল।
তবে নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, বহুসদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আলোচনার সময় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী দলগুলির একাংশ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে তাঁর কাজের প্রশংসা করা হচ্ছে। ফলে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
শমীক ভট্টাচার্য এদিন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে রাহুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই রাহুলের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে দাবি করেন।
এদিকে SIR নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ দুই দিকের দাবির মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখন জাতীয় স্তরেও পৌঁছেছে।
