নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে দু’টি সভা করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রার্থী নিজেই এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন।
শনিবার বৃষ্টি মাথায় নিয়েই নন্দীগ্রামে জনসংযোগ ও প্রচারে বের হন হাসিরানি রথ। নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের শিবরামপুর, হানুভুঁইয়া এবং কালীবাড়ি এলাকায় টোটোয় চেপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় পথসভাতেও অংশ নেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রামের একাধিক মন্দিরে পুজো দেন বিজেপি প্রার্থী।
প্রচারের ফাঁকে হাসিরানি রথ বলেন, “নন্দীগ্রামের মাটি শুভেন্দু অধিকারীর মাটি। এই মাটিতে শুভেন্দু অধিকারীই শেষ কথা।” তাঁর বক্তব্য, তিনি নির্বাচিত হলে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিনিধিত্ব করবেন।
হাসিরানি রথ আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারে আগামী ২ এবং ৪ অক্টোবর নন্দীগ্রামে আসবেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থাৎ ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে পরপর দু’দিন নন্দীগ্রামে সভা করার কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। ফলে শেষপর্বের প্রচারে বিজেপি নন্দীগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই প্রার্থীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এর আগে প্রচারের প্রথম দিনেও হাসিরানি রথ নন্দীগ্রাম আসনের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর হয়েই তিনি নন্দীগ্রামে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এদিনের প্রচারে হাসিরানি রথের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। তাঁর কথায়, “নন্দীগ্রাম মানেই শুভেন্দু অধিকারী।” একইসঙ্গে বিরোধীদের প্রচার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য লড়াই করছে, আর বিজেপির লক্ষ্য ব্যবধান বাড়ানো।
তবে উপনির্বাচনকে ঘিরে শুধু বিজেপিই নয়, অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও প্রচারে নেমে পড়েছে। নন্দীগ্রামে ফের একবার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও কর্মীরা ইতিমধ্যেই এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন।
৬ অক্টোবরের ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারের ব্যস্ততা। বিশেষ করে ভোটের আগে ২ ও ৪ অক্টোবর শুভেন্দু অধিকারীর সম্ভাব্য সভা ঘিরে বিজেপি শিবিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই দুই সভায় কী বার্তা দেওয়া হয় এবং প্রচারের শেষপর্বে কোন বিষয়গুলি সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এবারের উপনির্বাচনেও তাই এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা এবং প্রচারের মাত্রা বাড়ছে। ৬ অক্টোবর ভোটের পরই স্পষ্ট হবে নন্দীগ্রামের ভোটারদের রায়।
