রাঁচি: মাঝ আকাশে আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু এক যাত্রীর। বিমানের ভিতরেই দিতে হল অক্সিজেন। কোনও রকমে পরিস্থিতি সামলে বিমান নামল রাঁচিতে। কিন্তু বিপত্তি সেখানেই শেষ হল না। ওই যাত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে পরের উড়ানই প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পিছিয়ে গেল। রবিবার রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় চাঞ্চল্য।
ঘটনার সূত্রপাত বেঙ্গালুরু থেকে রাঁচিগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের IX 1239 উড়ানে। বিমানটি রাঁচির উদ্দেশে আকাশে ওড়ার পর এক যাত্রীর আচমকাই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে পেরে বিমানের কর্মীরা তাঁকে অক্সিজেন দেন। জরুরি পরিস্থিতি সামলে নির্দিষ্ট সময়ের পরে বিমানটি রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, অবতরণের পর ওই যাত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে তিনি বিমানবন্দর থেকে নিরাপদেই বাড়ি ফিরে যান। ফলে মাঝ আকাশে তৈরি হওয়া চিকিৎসাজনিত সঙ্কট শেষ পর্যন্ত বড় বিপদে গড়ায়নি।
কিন্তু যাত্রীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরেই নতুন সমস্যা সামনে আসে। একই বিমানটির রাঁচি থেকে বেঙ্গালুরু ফেরার কথা ছিল। সেই উড়ানের আগে প্রয়োজন হয়ে পড়ে অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের। রাঁচিতে প্রয়োজনীয় সিলিন্ডারের ব্যবস্থা না থাকায় তা দিল্লি থেকে আনানোর উদ্যোগ নেয় বিমান সংস্থা।
রাঁচি বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিনোদ কুমার সিংহ জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরু থেকে আসা IX 1239 উড়ানটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট নাগাদ রাঁচিতে পৌঁছয়। পরে দিল্লি থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে ব্যবস্থা করা হয়। এর জেরে রাঁচি থেকে বেঙ্গালুরুগামী ফিরতি IX 1244 উড়ানটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। দুপুর ১টা ৫১ মিনিট নাগাদ বিমানটি বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা দেয়। অর্থাৎ, এক যাত্রীর মাঝ আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে শুরু হওয়া জরুরি পরিস্থিতির প্রভাব গিয়ে পড়ল পরবর্তী উড়ানের যাত্রীদের উপরেও। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হল রাঁচি বিমানবন্দরে থাকা বেঙ্গালুরুর যাত্রীদের।
ঘটনাটি অবশ্য একই সঙ্গে বিমানে মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। মাঝ আকাশে কোনও যাত্রী আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় বিমানেই অক্সিজেন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল। পরে নিরাপদে বিমান অবতরণের পর যাত্রীকে চিকিৎসাজনিত নজরদারির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, জরুরি পরিস্থিতি সামলে একই বিমানকে ফের উড়িয়ে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করতে কেন দিল্লি থেকে তা আনাতে হল? রাঁচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত চিকিৎসা-সহায়ক সরঞ্জামের ব্যবস্থা কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে এই বিষয়ে বিমান সংস্থার তরফে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্বস্তির বিষয়, ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা গুরুতর দুর্ঘটনার খবর নেই। অসুস্থ যাত্রীও নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু এক যাত্রীর মাঝ আকাশে শ্বাসকষ্ট, বিমানে অক্সিজেন, তার পর দিল্লি থেকে সিলিন্ডার, সব মিলিয়ে পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষা। রবিবারের এই ঘটনাই দেখিয়ে দিল, আকাশপথে একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির অভিঘাত কী ভাবে গোটা উড়ানসূচিকে বদলে দিতে পারে।