নয়াদিল্লি, ১৫ অগস্ট: এক হাতে বন্দুক, অন্য হাতে মতাদর্শ—নকশাল মোকাবিলায় এ বার শত্রুর দ্বিতীয় মুখের দিকে নজর দেওয়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে তাঁর সাফ কথা, সশস্ত্র নকশালবাদকে অনেকটাই কোণঠাসা করা গেলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নকশালপন্থী চিন্তা ছড়ানোর চেষ্টা যারা করে, তাদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘দিমাগি নকশাল’দের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা জরুরি।
স্বাধীনতার ৮০ বছরে দাঁড়িয়ে এ দিনের ভাষণে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে বলতে গিয়ে নকশাল সমস্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন মোদী। তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল স্পষ্ট—শুধু জঙ্গলে অস্ত্র হাতে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করলেই নকশাল সমস্যা শেষ হবে না। সেই হিংসাত্মক মতাদর্শের প্রভাব যদি সমাজের অন্য স্তরে পৌঁছে যায়, তা হলে নতুন করে বিপদের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে সেই ‘অদৃশ্য লড়াই’-এর কথাই। বন্দুকের গুলি চোখে দেখা যায়, কিন্তু মতাদর্শের প্রভাব অনেক সময় ছড়ায় নীরবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিসর কিংবা তরুণদের মধ্যে সেই প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা হলে তার মোকাবিলাও জরুরি—এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মোদীর দাবি, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রের লাগাতার অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। যে সব এলাকায় এক সময় নকশাল আতঙ্ক ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে এখন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছচ্ছে। কিন্তু সেই সাফল্য ধরে রাখতে হলে হিংসার উৎসের পাশাপাশি তার মতাদর্শগত ভিত্তিকেও দুর্বল করতে হবে।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পথে কোনও ধরনের হিংসা বা বিভাজন বরদাস্ত করা যায় না। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক ঐক্যও অটুট রাখতে হবে।
তবে ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা এ দিনের ভাষণে দেননি প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন উঠতে পারে—মতাদর্শের ভিত্তিতে কাউকে ‘নকশাল’ তকমা দেওয়ার মাপকাঠি কী হবে?
তবু বার্তাটি যে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এত দিন নকশাল বিরোধী লড়াইয়ের মূল ছবি ছিল জঙ্গল, অভিযান, বন্দুক আর নিরাপত্তাবাহিনী। এ বার সেই ছবির সঙ্গে যোগ হল আর একটি শব্দ—‘দিমাগি নকশাল’। লালকেল্লা থেকে মোদীর বার্তা, বন্দুকের লড়াই শেষের দিকে গেলেও মতাদর্শের লড়াই এখনও বাকি।