ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ তৈরি ছিল। কিন্তু সেই মঞ্চেও মুখ থুবড়ে পড়ল বাস্তব রায়ের মোহনবাগান। শুক্রবার ভবানীপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরে কলকাতা লিগে আরও চাপে পড়ে গেল সবুজ-মেরুন শিবির। কাস্টমসের কাছে হারার পর এই ম্যাচ জয়ের লক্ষ্যে সিনিয়র দলের ফুটবলারদের নিয়েই নেমেছিল বাগান। কিন্তু গোটা ম্যাচে ছন্দহীন ফুটবল খেলে গিয়েছে তারা। উল্টোদিকে রঞ্জন চৌধুরীর ভবানীপুর শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষেও উঠে এল ভবানীপুর।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি মোহনবাগান। ১৯ মিনিটে অফসাইডের জন্য বাতিল হয় একটি গোল। অন্যদিকে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ দেখিয়েছে ভবানীপুর। বলের দখল থেকে আক্রমণ, প্রায় সবকটি বিভাগেই এগিয়ে ছিল তারা। সাহিল হরিজন ও জিতেন মুর্মুর গতিতে বারবার চাপে পড়েছে বাগান রক্ষণ। খেলার ১২ মিনিটে জিতেনের দূরপাল্লার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় বাঁচান গোলরক্ষক দীপ্রভাত ঘোষ।
কার্যত অফসাইডে গোল বাতিল হওয়ার পরই যেন ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ২৭ মিনিটে সুহেল ভাটকে বক্সের মধ্যে আটকে দেন ভবানীপুরের ডিফেন্ডার। ৩৫ মিনিটে কিয়ান নাসিরির জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর পর ইনজুরি সময়ে নাসিরির ফ্রিকিক অনবদ্য ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন ভবানীপুরের গোলরক্ষক আদিত্য পাত্র। প্রথম ৪৫ মিনিটে আক্রমণে ধারহীনতা এবং মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানোর খেসারত দিতে হয় সবুজ-মেরুনকে।
বিরতির পরও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতেই রাখে ভবানীপুর। ধারাবাহিক আক্রমণের ফলও পায় তারা। মোহনবাগান লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দুরন্ত ছন্দ বজায় রাখল রঞ্জন চৌধুরীর দল। ভবানীপুরের হয়ে গোল দিয়েছেন সাহিল এবং রবি। অন্যদিকে, মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোলটি বিভানের। সিনিয়র দলের তারকা খেলিয়েও প্রত্যাশিত ফল পেল না মোহনবাগান। ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো হল তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে।