নিউজ ডেস্ক: কলকাতার মুকুন্দপুরে মঙ্গলবার বিকেলে রাজনৈতিক মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিল চলাকালীন ধস্তাধস্তির পাশাপাশি মহিলা কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি রাজনৈতিক কার্যালয় দখলমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত মিছিলকে ঘিরে। মমতা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের দাবি, তাঁরা কার্যালয় দখলমুক্ত করার দাবিতে মিছিল করে ডেপুটেশন দিতে যাচ্ছিলেন। মিছিল কিছুটা এগোনোর পরই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মমতা তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁদের কর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাঁদের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। দলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরীও নিজের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
উপাসনার দাবি, সংঘর্ষের সময় তাঁর ওড়না টেনে নেওয়া হয় এবং তাঁর গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের দলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি সেই পরিবার থেকে আসিনি যে পোশাকটা তুলে দেখাব, আমার কী অবস্থা করা হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, মিছিলের পাশ দিয়ে দলের এক কর্মী যাচ্ছিলেন এবং তিনি মিছিলের ভিডিয়ো রেকর্ড করছিলেন। সেই সময় তাঁকে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ বিজেপির। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকেই প্রথমে হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরে সেটিকে অন্যভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজনা না কমায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় ছিল।
এই ঘটনার জেরে মুকুন্দপুরে রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কার্যালয় দখলমুক্ত করার দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি কীভাবে ধস্তাধস্তি এবং পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় পরিণত হল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। এক পক্ষ যেখানে কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলছে, অন্য পক্ষ সেখানে নিজেদের কর্মীর উপর আক্রমণের অভিযোগ করছে।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে কি না বা এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে মুকুন্দপুরের এই রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।