নিউজ ডেস্ক: হাজার হাজার মানুষের ভিড়। চারিদিকে স্লোগান, ব্যস্ততা আর উত্তেজনার আবহ। তার মধ্যেই আচমকা ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যেই বদলে দিল আন্দোলনের ছবি। কয়েক মিনিট আগেও যিনি অন্যান্যদের সঙ্গে সেখানে ছিলেন, ভিড়ের মাঝেই আচমকায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হল না। এই ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নামে জমায়েত চত্বরে।
মৃতের নাম গোপালকৃষ্ণ সুবাইয়া পিল্লাই। তাঁর বয়স ৭৫ বছর। মহারাষ্ট্রের ঠাণের দোস্তি কাউন্টির বাসিন্দা তিনি। জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে প্রায় ৪:৩০ মিনিট নাগাদ শিবাজী পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজিত আন্দোলনে যোগদান করতে পৌঁছন তিনি। সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আন্দোলনস্থলে পৌঁছেছিলেন গোপালকৃষ্ণ। অভিযোগ ও দাবিকে ঘিরে চলা সেই আন্দোলনে কিছুক্ষণ থাকার পরেই হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। সঙ্গে থাকা এক বন্ধুকে বিষয়টি জানান। এরপর তাঁকে দ্রুত শিবাজী পার্ক সংলগ্ন সুশ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ওই বৃদ্ধ।
ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি বেঞ্চে শুয়ে রয়েছেন গোপালকৃষ্ণ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পুলিশকর্মীরাও। এছাড়াও কয়েকজন তাঁর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে হাওয়া করছেন। কেউ কেউ হাত পায়ের তালু ঘষে দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে CPR দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। প্রশাসনের তরফে এই ঘটনায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছে। পরে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে, পরিবারের তরফে কারোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে CJP-র আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ অনুমোদন না দিলেও জমায়েত হয় বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। সিজেপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এবং SIR সহ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এনেছে। সেই জমায়েতে রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং বিনোদন জগতের কয়েকজন ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনের মধ্যেই গোপালকৃষ্ণের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যেই আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন গোপালকৃষ্ণ, সেখান থেকে আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁর। তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পুলিশি নথি ও চিকিৎসার তথ্যে হৃদরোগের কথা উঠে এসেছে। আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনও অভিযোগ পরিবারের তরফে জানানো হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে আন্দোলনস্থলে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
