NRS-এর শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। গত বুধবার রাতে শৌচাগারের দরজা ভেঙে অচৈতন্য অবস্থায় ওই নার্সকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা নার্সের বাড়ি দমদম থানা এলাকায়। ১২ অগাস্ট রাত ৮টা থেকে তাঁর নাইট শিফট ডিউটি ছিল। রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচালয়ে যান। প্রায় সাত মিনিট পরেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীরা তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর সাড়াশব্দ না পেয়ে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন সহকর্মীরা। সেখানেই নার্সকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শৌচালয়ে যাওযার সময়ে ওই নার্স ফেন্টানিলের ৩টি ভায়াল সঙ্গে করে নিয়ে যান। এই ওষুধ সাধারণত রোগীদেরক ঘুম পাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। ওই ওষুধ নার্সের কনুইয়ের জয়েন্টে ইনজেক্ট করা হয়েছিল। কেন এই ভায়াল তাঁর প্রয়োজন পড়ল, ইনজেক্টই বা কে করল শরীরে? যা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এন্টালি থানার পুলিশ এবং ডিডি-র হোমিসাইড টিম। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। মৃতা নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি, এনআরএস হাসপাতালে নয়, ময়নাতদন্ত হোক অন্য হাসপাতালে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, ঘটনার খবর পেয়েই বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। তার জন্য ইতিমধ্যেই কমিটি গড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এনআরএস হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দপ্তর একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে। নীলরতন হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিডেন্ট, ক্লিনিং বিভাগ-সহ কয়েকটি বিভাগের প্রধানদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে এই কমিটি।