স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ঢাকে কাঠি পড়তে বাকি আর দিনদশেক। তার আগেই জলের তলায় জাপানের শহর নাগোয়া। মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণে রীতিমতো বিপর্যস্ত মধ্য জাপানের এই গুরুত্বপূর্ণ শহর। শোনাই নদীর জন্য ইতিমধ্যেই সেখানে সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৫’ বন্যা সতর্কতা জারি করেছে দেশের আবহাওয়া দফতর। এক ঘণ্টায় নাগোয়ায় প্রায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাস্তা, রেললাইন থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো—জল ঢুকে পড়েছে সর্বত্র। ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২৭০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। শহরের একাধিক এশিয়ান গেমসের ভেন্যুতেও ঢুকেছে বৃষ্টির জল।
উদ্বেগের কারণ আরও একটি। আসন্ন এশিয়ান গেমসে এই নাগোয়াতেই হতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ঘাঁটি। শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন পুরুষ দল এবং হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন মহিলা দল জাপানে গিয়ে থাকবেন কোথায়, তা নিয়ে নেহাত কম জলঘোলা হয়নি গত কয়েক দিন ধরে। বিদেশ সফরে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাধারণতঃ বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলেই রাখা হয়। কিন্তু নাগোয়ায় পর্যাপ্ত পাঁচতারা হোটেল না থাকায় সেই বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়নি। টোকিও বা ওসাকায় দলকে রাখার কথাও উঠেছিল। কিন্তু দুটি শহরই নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে। তাই শেষ পর্যন্ত নাগোয়াতেই থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ দিকে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে জাপানের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন পরিষেবাতেও। জেআর সেন্ট্রালের তরফে জানানো হয়, ওকায়ামা থেকে টোকিও এবং টোকিও থেকে নাগোয়া, দু'দিকেই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল টোকিওমুখী টোকাইডো শিনকানসেনের পরিষেবা। আবার এরই মধ্যে নতুন করে আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা, ‘লিনিয়ার রেইনব্যান্ড’-এর প্রভাবে একই এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টি হতে পারে। আইচি ও গিফু প্রদেশের বিভিন্ন অংশে এমন বৃষ্টিপাতের জেরে ধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত পশ্চিম জাপান থেকে উত্তর-পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। টোকিও, সাইতামা, চিবা, কানাগাওয়া, ওসাকা এবং হিয়োগোতেও এমন বৃষ্টিবলয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এশিয়ান গেমস তথা ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে আশঙ্কার বাতাবরণ।
এর আগে বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানিয়েছিলেন, নাগোয়ায় পাঁচতারা হোটেল না হলেও ক্রিকেটারদের জন্য ভাল এবং আরামদায়ক আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। থাকার জায়গার ছবি ও ভিডিয়োও ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ক্রিকেটারদের রুম শেয়ার করতে হবে না। প্রত্যেকের জন্যই আলাদা ঘরের ব্যবস্থা থাকবে। ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা, এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি এবং জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মিলেই আবাসনের ব্যবস্থা করছে। যদিও বৃষ্টির এই ভয়াবহ ছবি দেখার পর নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন বসছে সবকিছুর পাশেই।
নজর থাকছে নাগোয়ার মাঠেও। বৃষ্টির দাপটে মাঠের অবস্থা কী থাকে, কতটা অক্ষত থাকে পরিকাঠামো, সেটাই দেখার। বিসিসিআই অবশ্য আগে জানিয়েছিল, মাঠ, উইকেট এবং ড্রেসিংরুম নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিদর্শনের পরে তা অনেকটাই মিটেছে। ভারতীয় দল ২০ সেপ্টেম্বর টোকিও রওনা হবে, ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি খেলার কথা। তার পর এশিয়ান গেমসে ভারতের ক্রিকেট অভিযান শুরু। তার আগে নাগোয়ার আকাশের এই রুদ্ররূপ নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দিল উদ্বেগ। তবে বোর্ডের আশ্বাস, আবাসন নিরাপদ, ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েও আপোষ করা হচ্ছে না।