নন্দীগ্রাম, নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা তার আগেই যেন বদলে গেল গোটা এলাকার চেহারা। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বাড়লো নজরদারি, প্রশাসনিক ব্যস্ততা তুঙ্গে। একের পর এক গাড়ি পৌঁছতে শুরু করল নির্দিষ্ট গন্তব্যে। ভোটের দিন যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, শেষ মুহূর্তে সেই প্রস্তুতি আরও জোরদার করলো প্রশাসন।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। আর সেই ভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা বিধানসভা এলাকাকে। নির্বাচন কমিশনারের তরফে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটারদের মধ্যে যেন কোনওরকম আতঙ্ক না থাকে এবং তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। সূত্রে খবর, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে মোট ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন মোট ৭০০ জন সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ কর্মী। অর্থাৎ ভোটের দিন বুথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকবে কড়া নজরদারি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচন কমিশনারের হিসেব অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় মোট ৩২৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে ৭৯টি বুথ স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে, ওই বুথগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। ভোটের সময় কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। এদিকে, সোমবার সকাল থেকেই রেয়াপাড়া ডিসিআরসি সেন্টারে ছিল ব্যস্ততার ছবি। ভোটকর্মীরা নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ইভিএম সংগ্রহ করেন। এরপর নির্দিষ্ট গাড়িতে করে তাঁরা নিজেদের বুথের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোট গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা শেষ মুহূর্তে খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে তাই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। তার আগে বুথে বুথে পৌঁছে যাচ্ছে ভোটের সমস্ত সামগ্রী, নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন ভোটকর্মীরা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রস্তুত থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ। ভোটাররা যাতে কোনওরকম ভয় ও চাপ ছাড়া তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, এখন সেটাই নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং গণতন্ত্রের এই উৎসব কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা নন্দীগ্রাম।
