নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন কমিটি গঠন করল NCPI। মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসেছে দলের নতুন কমিটির তালিকা। সেখানে একাধিক পরিচিত মুখ জায়গা পেলেও নজর কেড়েছে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাংসদের অনুপস্থিতি। বিশেষ করে নতুন কমিটিতে কোনও পদে দেখা যায়নি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। অন্যদিকে কমিটিতে রয়েছেন অভিনেতা-সাংসদ দেব এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নাম।
নতুন কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম রয়েছে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি সাংসদ দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আবু তাহের-সহ একাধিক নেতার নাম রয়েছে কমিটিতে। ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন করে রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের নেপথ্যে নির্দিষ্ট কোনও কারণ দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে আইনি জটিলতাও অব্যাহত। চলতি বছরের জুনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ওই সাংসদরা NCPI-র সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই মামলাতেই গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের কাছে নোটিস চেয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে অভিযোগ ছিল, সাংসদদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অযোগ্যতার আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। আদালত বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও শুনানিতে বিবেচনা করে।
এরপর লোকসভার সচিবালয় ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চায়। প্রথমে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও পরে সাংসদদের আবেদনের ভিত্তিতে সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ NCPI সাংসদদের পক্ষ থেকে আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করার খবর সামনে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, নোটিসের জবাব প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই NCPI-এর নতুন কমিটি প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিন্যাসের দিকে। বিশেষ করে একদিকে যখন ২০ সাংসদের সাংসদপদ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে তখনই নতুন সাংগঠনিক কমিটিতে নতুন মুখের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে নতুন কমিটিতে কারও থাকা বা না-থাকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান বা ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। ফলে NCPI-এর পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ এবং ২০ সাংসদের আইনি অবস্থান দুই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।