নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে গণআন্দোলনের হাত ধরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আবহকে ভারতের যুবসমাজের আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন ভারতের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেত্রী নেহা বোরা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলাপচারিতায় তাঁর করা সাম্প্রতিক কয়েকটি মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর।
ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে আন্দোলনের সাফল্যের জন্য ‘লাল সালাম’ ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যুবসমাজ যে আন্দোলনের সূচনা করেছিল, তা পথ দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে যে লড়াই গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল, ভারতেও সমসাময়িক ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণেরা একই ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পথে নেমেছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সে দেশের তরুণেরা যে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়েছে, ভারতীয় যুবসমাজের লড়াইয়ের চরিত্রও তার চেয়ে আলাদা কিছু নয়। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের এই প্রতিবাদী অবস্থানকে তিনি অভিন্ন বলে ব্যাখ্যা করেন।
https://x.com/Indian_Analyzer/status/2110383878489706497?s=20
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে আন্দোলনের জেরে চরম অরাজকতা ও আইন-শৃঙ্খলার বিপর্যয় ঘটেছিল। সেই একই পরিস্থিতি ভারতে তৈরি করে জোর করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের একাংশ এবং প্রতিবাদী ছাত্র নেতৃত্ব আসলে দেশের গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ শাসক মহলের।
অন্যদিকে, এই সমালোচনার জবাবে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের দাবি, বক্তব্যটিকে তার মূল প্রেক্ষিত থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিকৃতভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের যে ঐতিহাসিক অধিকার শিক্ষার্থীদের থাকে, নেহা বোরা কেবল সেটির প্রতিই নৈতিক সংহতি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, পড়শি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবং তাকে ঘিরে দেশীয় ছাত্র আন্দোলনের এই সমীকরণ রাজধানীর রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




