ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে জোর দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তাঁর সরকার বড়সড় বিনিয়োগ করছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান সংঘাতকে ঘিরে ইজরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং মিত্র দেশগুলির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েক দিন আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন, এই মুহূর্তে ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র আমেরিকা। সেই মন্তব্যের পরই নেতানিয়াহু ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে আনেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইজরায়েলের আরও বেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও জোট তৈরি করা প্রয়োজন। সেই কারণেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের অন্যতম ‘শ্রেষ্ঠ বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারত থেকে ইজরায়েল যে বিপুল সমর্থন পায়, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ভারত থেকে ইজরায়েল এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে যে সমর্থন দেওয়া হয়, তা ‘অবিশ্বাস্য’। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে ভারতের মানুষের সমর্থনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এর আগেও ভারতকে নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন নেতানিয়াহু। গত মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত ইজরায়েলের অন্যতম বন্ধু এবং সেখানে ইজরায়েলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। সমাজমাধ্যমেও ভারতীয়দের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য এবং কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদি ইজরায়েল সফর করেন। সেই সফরের সময় ভারত ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার বার্তা দিয়েছিল। এরপর ইজরায়েল ও আমেরিকার ইরান অভিযান ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইজরায়েলের কূটনৈতিক কৌশলে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভ্যান্সের মন্তব্যের পাল্টা বার্তা হিসেবেও নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে।