ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বা ‘এক দেশ,এক ভোট’ নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে। বিতর্ক ও বিরোধী রাজনীতির মুখে কেন্দ্র এই সংক্রান্ত বিল যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (জেপিসি) পাঠালেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যেই নিজস্ব উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সম্প্রতি রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন, পরিকাঠামো ও বাগান সংক্রান্ত শাখা দেশের প্রথম সারির ছয়টি বণিকসভাকে—সিআইআই, ফিকি,অ্যাসোচ্যাম,বেঙ্গল চেম্বার,মার্চেন্টস চেম্বার ও ভারত চেম্বার—চিঠি পাঠিয়ে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব জানতে চেয়েছে।
শিল্প দপ্তরের বিশেষ কমিশনারের পাঠানো এই চিঠিতে মূলত এক দফায় বনাম বর্তমানের একাধিক দফায় নির্বাচন হলে রাজ্যের আর্থিক বৃদ্ধি (জিডিপি) এবং সার্বিক কর্মসংস্থানের ওপর তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ও শিল্পমহলের মতে, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের মূল্যায়নে প্রথমেই বণিকসভাগুলোর মতামত চাওয়া একটি ভিন্নধর্মী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। কোনো কোনো বণিকসভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না হলেও দপ্তর নিয়মিত এ সংক্রান্ত অগ্রগতির খোঁজ নিচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সংস্থা চূড়ান্ত মতামত পেশ করেনি।
জাতীয় স্তরে যৌথ সংসদীয় কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে, নীরবে অর্থনৈতিক দিক থেকে এই নীতির উপযোগিতা যাচাইয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞমহল।




