কয়েক দিন আগেই এই জাতীয় স্তোত্র হিসেবে 'বন্দে মাতরম'কে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এ বার সেই 'বন্দে মাতরম'-এর ছয় স্তবক দিয়ে শুরু, আর রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে শেষ হল সংসদের বাদল অধিবেশন।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শেষ দিনে লোকসভার শুরুতেই বাজানো হয় জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ প্রায় পূর্ণ কক্ষ সেই সময় উপস্থিত ছিলেন। স্তোত্র শেষ হতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে গেল লোকসভার অধিবেশন। সংসদের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও অধিবেশনের শেষ দিনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই একসঙ্গে গাওয়া হল। নতুন আইন অনুসারে, ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আটকানো বা স্তোত্রটিকে অপমান করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
তবে দিনের সূচনা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, শেষটা ততটাই অস্বস্তিকর। সকাল থেকেই সংসদ চত্বরের মকর দ্বারে বিজেপি ও বিরোধীদের পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে বিজেপি। পাল্টা নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হন বিরোধী সাংসদেরাও। উঠে আসে দলিত প্রসঙ্গ। এমন রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এ বার তাঁর প্রচলিত বিদায়ী ভাষণও দেননি। ফলে অধিবেশনের কাজকর্ম, উৎপাদনশীলতা কিংবা সংসদীয় পরিসংখ্যান তুলে ধরার রীতিও দেখা গেল না শেষ দিনে।
২০ জুলাই শুরু হয়েছিল বাদল অধিবেশন। শুরু থেকেই একাধিক ইস্যুতে বার বার অচল হয়েছে সংসদের দুই কক্ষ। দিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব ছিল বিরোধী শিবির। সরকার ও বিরোধীদের টানাপড়েনে বহু দিনই স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আশ্বাসও মিলেছিল। কিন্তু অধিবেশনের শেষ দিনেও সেই আলোচনার পথ মসৃণ হল না।
ফলে ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে শেষ দিনের সূচনা হলেও সংসদের পরিসমাপ্তি হল স্লোগান, পাল্টা স্লোগান এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই। এক দিকে জাতীয় স্তোত্রকে ঘিরে নতুন আইনি বিধান ও প্রোটোকলের তাৎপর্য। অন্য দিকে অধিবেশনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার-বিরোধী সংঘাত। দুই বিপরীত ছবিই ধরা পড়ল বৃহস্পতিবারের সংসদে।