মোদি সরকারের প্রস্তাবিত ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA) সংশোধনী বিল নিয়ে এবার ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ সামনে এল। বিলটি পাশ হলে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রাইলি মুর। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তাবিত সংশোধনী মূলত খ্রিস্টান ধর্মীয় সংগঠন ও গির্জাগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৫ মার্চ লোকসভায় পেশ করা হয় FCRA সংশোধনী বিল ২০২৬। প্রস্তাবিত আইনে বিদেশি অনুদান পাওয়া সংস্থাগুলির সম্পত্তি ও অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কোনও সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি বন্ধ হয়ে গেলে, বিদেশি অনুদান থেকে তৈরি সম্পত্তি আগের মতো ব্যবহার করা যাবে না। নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সম্পত্তি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।
এছাড়াও, কেন্দ্র চাইলে বিদেশি অনুদান থেকে পাওয়া অর্থ কতদিনের মধ্যে খরচ করতে হবে, তার সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবে। কোনও সংস্থা FCRA লাইসেন্স নবীকরণের জন্য আবেদন না করলে, অথবা সরকারের তরফে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত বিলে রাখা হয়েছে।
ভারতে বহু স্বেচ্ছাসেবী ও ধর্মীয় সংগঠন FCRA-এর আওতায় বিদেশি অনুদান পেয়ে থাকে। বিদেশ থেকে অনুদান গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কেন্দ্রের অনুমোদন নিতে হয়। ২০১০ সালের FCRA আইনের অধীনে সংস্থাগুলির রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংস্থার লাইসেন্স বাতিলও করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাইলি মুর দাবি করেছেন, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে ভারতে কাজ করা খ্রিস্টান সংগঠন এবং গির্জাগুলি সমস্যায় পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই বিল নিয়ে আমেরিকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিলটি বর্তমান রূপে এগোলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে বিদেশি অনুদানের ব্যবহার আরও নিয়ন্ত্রিত করা এবং অনুদানের অর্থ ও সম্পত্তির উপর নজরদারি বাড়ানোই কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বিলটি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিষয়টি নিয়ে নজর রয়েছে।