সংসদের বাদল অধিবেশনে টানা তৃতীয় সপ্তাহেও কাটল না অচলাবস্থা। বুধবার লোকসভা ফের বিরোধীদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সূত্রের খবর, সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে রাহুলের সহযোগিতা চেয়েছিলেন রিজিজু। বিশেষ করে ডিলিমিটেশন বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল নিয়ে কংগ্রেসের সমর্থন চাওয়া হয়।
তবে রিজিজুর সেই প্রস্তাবে সরাসরি ‘না’ জানিয়ে দেন রাহুল গান্ধী। সূত্রের দাবি, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সরকারের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সংসদে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলতে দেওয়া হবে না।
রাহুলের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান নিয়ে ওঠা চুরির অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনা এবং ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
যদিও কেন্দ্র এই অভিযোগ মানতে নারাজ। সরকারের বক্তব্য, কোনও বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ম্যাজিস্ট্রেটের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর রিজিজু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও আলোচনা করেন বলে সূত্রের খবর।
এদিকে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে কেন্দ্রের পরিকল্পনাতেও বিরোধীদের অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্রের দাবি, লোকসভায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের পর সরকার চলতি অধিবেশনেই বিলটি ফের আনার বিষয়ে আশাবাদী ছিল। গত অধিবেশনে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।
সংসদের অচলাবস্থার প্রভাব পড়ছে নিয়মিত কাজেও। ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে লোকসভায় পূর্ণাঙ্গভাবে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালানো সম্ভব হয়নি। বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই এখনও পর্যন্ত পাঁচটি বিল আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে।
বুধবারও অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী সাংসদদের নিজেদের আসনে ফিরে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালানোর আবেদন জানান। তিনি বলেন, স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভ চলতেই থাকায় শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করতে হয়।
ফলে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে সরকারের উদ্যোগ এবং সংসদের অচলাবস্থা, দুই ক্ষেত্রেই আপাতত জট কাটার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না।