তিরুচিরাপল্লি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: রেল দুর্ঘটনার মতো বড় বিপর্যয় ঘটলে উদ্ধারকাজে দ্রুততা যেমন জরুরি, তেমনই প্রয়োজন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয়। সেই প্রস্তুতিই আরেকবার ঝালিয়ে নিতে তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লিতে বিশেষ মহড়ার আয়োজন করল রেল দফতর এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলি। দুর্ঘটনার প্রথম কয়েকটি ঘণ্টায় যোগাযোগে সামান্য গাফিলতি বা দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অস্পষ্টতাও উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বাস্তব পরিস্থিতির আদলে এই ধরনের মহড়ার গুরুত্ব যথেষ্ট বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিরুচিরাপল্লির এই মহড়ায় বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের দক্ষতাই মূলতঃ যাচাই করা হয়েছে।
রেল দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আগে থেকেই বিভিন্ন বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে মহড়া চালিয়ে আসছে ভারতীয় রেল। রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথিতেও এমন ‘মক ড্রিল’-এর গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই মহড়ার মাধ্যমে বিপর্যয়ের সময়ে ব্যবহারের জন্য রাখা সরঞ্জাম কতটা প্রস্তুত, কর্মীদের প্রতিক্রিয়া কত দ্রুত এবং সামগ্রিক উদ্ধার-পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে কোন সংস্থা কখন, কী ভাবে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, সেই ব্যবস্থাটিও পরীক্ষা করে নেওয়া যায়। ফলে বাস্তব দুর্ঘটনার সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা কমে।
তিরুচিরাপল্লির মহড়ার পর এ বার নজর থাকবে তার মূল্যায়নের দিকে। কোথায় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা হল কি না, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কতটা সময় নিল, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ে কোথাও ফাঁক রয়ে গেল কি না—সবই খতিয়ে দেখা হবে। রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন মহড়ার পর তার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করার রীতি রয়েছে। সেই অনুযায়ী এই মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকল্পনাতেও কাজে লাগানো হতে পারে।
যাত্রীদের কাছে এই মহড়ার তাৎপর্য অবশ্য কোনও তাৎক্ষণিক বিপদের ইঙ্গিত নয়। বরং বড়সড় রেল দুর্ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে একাধিক সরকারি ও জরুরি পরিষেবা সংস্থা কতটা দ্রুত মাঠে নামতে পারবে, তারই প্রস্তুতি এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। দুর্ঘটনা ঠেকানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করাই লক্ষ্য। তাই তিরুচিরাপল্লির মহড়া শেষ হলেও তার আসল পরীক্ষা হবে পরবর্তী মূল্যায়নে। মহড়ায় চিহ্নিত দুর্বলতাগুলি কত দ্রুত সংশোধন করা যায়, তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতের প্রস্তুতির সাফল্য।