নিউজ ডেস্ক: দিনের আলোয় চারিদিকে যখন পড়াশোনা, ক্লাস আর কচিকাঁচাদের কলতানে মুখর থাকার কথা স্কুল চত্বর, ঠিক তখনই নিজের ঘরের মেঝেতে চাদর বা কার্পেট পেতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন খোদ স্কুলের প্রধান শিক্ষক!
তাও আবার একদিন-আধদিনের ঘটনা নয়, দিনের পর দিন রুটিনমাফিক চলছে এই ‘দিবানিদ্রা’। রাজস্থানের কারৌলি জেলার এক প্রত্যন্ত সরকারি স্কুলের এমনই এক চাঞ্চল্যকর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীল পদে বসে এমন চূড়ান্ত গাফিলতি দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা।
ঘটনাটি কারৌলি জেলার টোডাভীম ব্লকের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের। ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দিওদিরাম মিনাকে। ভিডিওতে স্পষ্ট, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ করার বদলে তিনি নিজের অফিস ঘরের মেঝেতেই কার্পেট পেতে টানটান হয়ে ঘুমোচ্ছেন।
যখন বাকি শিক্ষকরা ক্লাসে পড়াচ্ছেন, তখন তিনি ঘুমোচ্ছেন। আবার কখনও মিড-ডে মিলের সময়েও তাঁর ঘুম ভাঙার কোনও লক্ষণ নেই।ভিডিওর সবচেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্যটি ধরা পড়েছে মিড-ডে মিল বিতরণের সময়।
যেখানে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে খাবার পাওয়ার কথা, সেখানে খুদে পড়ুয়ারা নিজেরাই থালা-বাসন নিয়ে খাবার নিচ্ছে, খাওয়ার পর কলের তলায় গিয়ে নিজেদের এঁটো বাসন নিজেদেরই ধুতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক যখন নিজের ঘরে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছেন, তখন চত্বরে তদারকির ন্যূনতম দায় নেওয়ার মতো কেউ নেই।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, এমন এক দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রধান শিক্ষকের হাতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত? শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা তো দূর, যেখানে খোদ প্রধানের এমন আচরণ, সেখানে পঠনপাঠনের মান কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে দোলাচলে অভিভাবকমহল। অনেকেরই দাবি, বছরের পর বছর ধরে স্কুলটিতে এই বিশৃঙ্খলা চললেও স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিকদের নজরদারি কোথায় ছিল? কেন এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? অনেকেই অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করার ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।