কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠল। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে মামলার ১৩ নম্বর স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। তদন্ত চলছে বলে আদালতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্তের গতি নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা। যদিও একইসঙ্গে সিবিআইয়ের উপর আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শিয়ালদহ আদালতে হাজির ছিলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, এখনও যারা ধরা পড়েনি, তারা বেশি দিন বাইরে থাকতে পারবে না। তাঁর কথায়, ‘‘অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তবে বেশি দিন ঘুরে বেড়াতে পারবে না। তারা সবাই শাস্তি পাবে।’’
ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নির্যাতিতার বাবা। তিনি বলেন, এই মামলায় যা করার সিবিআই করবে। রাজ্য পুলিশের হাতেও যতটা ক্ষমতা রয়েছে, তারাও সেই অনুযায়ী কাজ করবে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, গোটা দেশ এই মামলার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তবে সিবিআইয়ের তদন্তের গতি নিয়ে তাঁর অসন্তোষ স্পষ্ট। তাঁর দাবি, আগের তদন্তকারী দলের তুলনায় বর্তমানে গঠিত নতুন তদন্তকারী দল বেশি কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত যে গতিতে এগোনো প্রয়োজন, সেই গতি এখনও দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, তদন্ত কিছুটা এগোচ্ছে সেটা বোঝা গেলেও আরও দ্রুততার সঙ্গে কাজ হওয়া প্রয়োজন।
আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথমে কলকাতা পুলিশের হাতে ছিল। সেই সময় মূল অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পরে শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
কিন্তু তদন্তের সেই পর্যায়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের পর সিবিআই নতুন করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে।
মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া ১৩ নম্বর স্টেটাস রিপোর্টে সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ফরেনসিক তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। এছাড়াও নির্যাতিতার শেষকৃত্যের সময় পানিহাটি শ্মশানে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। এমনকি নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গেও তদন্তের সূত্রে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই। আদালতে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেস ডায়েরিও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে সিবিআই একই কথা বলে আসছে—‘তদন্ত চলছে’। তাঁর অভিযোগ, কারা যুক্ত এবং কারা অভিযুক্ত, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন এখনও রয়েছে। যে ব্যক্তিদের এখনও তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে কেস ডায়েরিতে কী উল্লেখ রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই মামলায় পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ নভেম্বর শিয়ালদহ আদালতে হওয়ার কথা। তার আগে তদন্তে নতুন কোনও অগ্রগতি হয় কি না, এবং সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।