কলকাতা: পরীক্ষা শুরু হতে আর হাতে খুব বেশি সময় নেই। অথচ এখনও পরীক্ষার ফর্ম পূরণই হয়নি। কবে থেকে ফর্ম পূরণ শুরু হবে, শেষ তারিখই বা কবে,তারও স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না পড়ুয়ারা। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধানের দাবিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দ্বারস্থ হলেন সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের পড়ুয়ারা।
মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখুক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং দ্রুত ফর্ম পূরণের দিনক্ষণ ও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানানো হোক।
কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী নীলাঞ্জনা ভট্টাচার্যের দাবি, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। অথচ মঙ্গলবার পর্যন্ত পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ফর্ম পূরণের শেষ তারিখ সম্পর্কেও পড়ুয়ারা নিশ্চিত নন। ফলে পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
উপাচার্যকে দেওয়া চিঠিতে পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে সময়মতো ফর্ম পূরণের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কোনও পড়ুয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে না পারলে তার দায় যেন পড়ুয়ার উপর না বর্তায়, সেই বিষয়টিও তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তুলে ধরেছেন।
পড়ুয়াদের আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন কলেজকে দ্রুত ফর্ম পূরণের শুরুর দিন, শেষ তারিখ এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানাতে নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক বা যোগাযোগের সমস্যার কারণে কোনও পড়ুয়ার শিক্ষাগত ক্ষতি যাতে না হয় এবং তাঁরা পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করারও আবেদন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত উপস্থিতির হারকে কেন্দ্র করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, যাঁদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়, তাঁদের একাংশকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ৪০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকায় কয়েকজন পড়ুয়ার পরীক্ষায় বসার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয় বলে অভিযোগ। এরপরই কলেজে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে গত সপ্তাহে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও অবস্থায় ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম। সেই সময় পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়ে যায়।
ঘেরাও পর্বের পর তরন্নুম দাবি করেছিলেন, তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ই-মেলের মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে চাপের মুখে ওই পদত্যাগের কথা বলা হয়েছিল। পরে তিনি স্পষ্ট করে জানান, পদত্যাগ করার প্রশ্নই নেই।
বরং কম উপস্থিতির পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁদের পরীক্ষায় বসানোর সুযোগ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের আশা ছিল, সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
সোমবার কলেজে দেখা না গেলেও মঙ্গলবার ফের কলেজে যান তরন্নুম। এ দিন তিনি পড়ুয়াদের ক্লাসও নেন। তবে কম উপস্থিতির পড়ুয়াদের কীভাবে বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে পরীক্ষায় বসানোর ব্যবস্থা করা হবে, কিংবা ফর্ম পূরণের জটিলতা কীভাবে মিটবে—সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এখন পড়ুয়াদের মূল দাবি একটাই পরীক্ষার আগে দ্রুত ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং উপস্থিতি সংক্রান্ত জটিলতার একটি স্থায়ী সমাধান করা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।