কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। পুজোর দিনগুলিতে যাতে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতর। এবছর রাজ্যজুড়ে সার্বজনীন দুর্গাপুজোর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়তে চলেছে বিদ্যুতের চাহিদাও।
বিদ্যুৎ দফতরের হিসাব অনুযায়ী, এবছর অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৭ হাজার। ফলে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে আগে থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু মণ্ডপের সংখ্যা নয়, পুজোর সময় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদাও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এবছর রাজ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ১২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর দুর্গাপুজোর সময় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১০ হাজার মেগাওয়াটের কিছুটা কম। ফলে এবছর চাহিদা মেটানো বিদ্যুৎ দফতরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে যাতে কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই পুজো কমিটিগুলির জন্য বড় ঘোষণা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের পুজো মণ্ডপগুলিতে সম্পূর্ণ নিখরচায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ফলে পুজো উদ্যোক্তাদের বিদ্যুৎ খরচের চাপ অনেকটাই কমবে। তবে একইসঙ্গে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য পুজো কমিটিগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে কয়লার জোগানের উপরও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ‘কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর অধীনস্থ সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে যাতে সময়মতো কয়লা পৌঁছয়, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো নিয়েও নেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। পাওয়ার গ্রিড এবং ডব্লিউবিএসইটিসিএল-এর মতো সংস্থাগুলি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছে। একইসঙ্গে ডব্লিউবিএসইডিসিএল, সিইএসসি এবং আইপিসিএল-কেও পুজোর সময় বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনও এলাকায় আচমকা বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য রাজ্যজুড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মোবাইল মেনটেন্যান্স ভ্যান ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে। অর্থাৎ পুজোর দিনগুলিতে দিন-রাত জরুরি পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও বিদ্যুৎ ভবনে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে। সিইএসসি এবং আইপিসিএল-এর এলাকাতেও পৃথক হেল্পলাইন চালু থাকবে। এর ফলে পুজোর সময় কোনও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা হলে দ্রুত অভিযোগ জানানো এবং পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
সব মিলিয়ে এবছর দুর্গাপুজোয় মণ্ডপের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই বাড়তি চাপ সামলাতে উৎপাদন থেকে সরবরাহ এবং জরুরি পরিষেবা সব দিকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য। এখন লক্ষ্য একটাই, উৎসবের চার দিন যাতে আলোয় আলোকিত থাকে গোটা বাংলা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে দর্শনার্থী ও পুজো উদ্যোক্তাদের কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়।