নিউজ ডেস্ক: রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে আমানতকারীদের জন্য সুখবর। টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াকে ঢিলেমি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে রোজভ্যালির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্য টাকা আমানতকারীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে কাজের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতি মাসে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটির হাতে থাকা অর্থের একটি বড় অংশ দ্রুত বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ৩২ লক্ষের বেশি বকেয়া দাবির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আদালতে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির হাতে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আমানতকারীদের মধ্যে এখনও তুলনামূলকভাবে অল্প অর্থই পৌঁছেছে। গত ১১ বছরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি কমিটির হাতে এলেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৫.৪৫ কোটি টাকা বণ্টন করা হয়েছে। মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম সম্পন্ন হয়েছে বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। আরও ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়নের কাজ শেষ হয়েছে।
সম্পত্তি বিক্রি ও টাকা ফেরানোর পাশাপাশি রোজভ্যালির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সম্পত্তির হদিশ পেতেও তৎপর হতে বলা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত না হওয়া সম্পত্তি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুন্ডুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এর পর যত তদন্ত এগিয়েছে, একের পর তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
গৌতমের পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রী শুভ্রা কুন্ডুকেও গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। রোজভ্যালি কাণ্ডের তদন্তে একাধিকবার শুভ্রাকে জেরা করেছে সিবিআই৷ কিন্তু তিনি যথাযথ প্রশ্নের জবাব না দেওয়াতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে সিবিআই সূত্রে খবর৷ দফায় দফায় রোজভ্যালি মামলায় একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। অতীতে এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা।
