উত্তর ২৪ পরগনা, রেশমি ব্যানার্জি: সকাল থেকে আকাশের মুখ ভার, নদীর জল ফুলে ফেঁপে উঠেছে। টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ফের বাড়ল জলস্তর। বিদ্যাধরী নদীর জলের প্রবল স্রোত এবং লাগাতার বৃষ্টির চাপে সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের ন্যাজাট-২ এলাকার গাজীখালী নদীবাঁধের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ ধস নেমেছে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া না গেলে যেকোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙ্গে আশেপাশের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাঁধের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নদীর জল ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে বাঁধের উপর, এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বৃষ্টি। ফলে বাঁধের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পাড় সংলগ্ন গ্রামগুলির বাসিন্দারা ব্যাপক উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। যে-কোনও সময় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে তাদের, এই ভয়েতেই রয়েছেন তারা।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সন্দেশখালীর বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। তিনি সরেজমিনে বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনি কথাও বলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ভাঙ্গন রোখার কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেন তিনি।
এরপর, স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ। প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরে ধসে যাওয়া অংশে ফেলার কাজ শুরু করা হয়। নদীর জলের প্রবল স্রোত এবং বৃষ্টির জলের মধ্যেই আপাতত অস্থায়ীভাবে বাধ রক্ষার চেষ্টা চলছে। তবে, এই সাময়িক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সূত্রে খবর, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় স্তরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক সনৎ সরদার। সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে, বৃষ্টি যদি একইভাবে চলতে থাকে তাহলে গাজীখালী নদী বাঁধের এই ধস বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে অনুমান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অস্থায়ীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী ভাবে বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। জীবনে ঝুঁকি নিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তাই এই বাঁধ যাতে দ্রুত মেরামত করা হয় সেই আবেদন জানিয়েছেন তারা।
নিম্নচাপের প্রভাব বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে জনজীবন। এরই মাঝে এই দুর্বল বাঁধ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে অঘটন। যদিও প্রশাসনিক তৎপরতা রয়েছে।