সন্দেশখালি: ধর্মীয় অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর একের পর এক গ্রামবাসী অসুস্থ হয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সন্দেশখালির ঘোষপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার রাতে সন্দেশখালির দ্বাড়ীর জঙ্গল এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত গ্রামবাসীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। সেই খাবার খাওয়ার পর থেকেই কয়েকজনের শরীরে অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও অনেকে একই ধরনের সমস্যায় পড়েন।
প্রথমে জ্বর ও বমি দিয়ে অসুস্থতা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যান। একসঙ্গে বহু মানুষ হাসপাতালে পৌঁছনোয় স্থানীয় স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়।
খাবার খাওয়ার পরেই একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে এতজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এখনও পর্যন্ত খাবারে বিষক্রিয়াই যে অসুস্থতার নিশ্চিত কারণ, তা বলা হয়নি। ঠিক কী কারণে এতজন গ্রামবাসী অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থদের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। অসুস্থদের মধ্যে শিশু, মহিলা কিংবা প্রবীণদের সংখ্যা কত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
একই অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর বহু মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় খাবারের গুণমান, সংরক্ষণ এবং প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খাবারটি কোথায় তৈরি হয়েছিল, কতক্ষণ আগে রান্না করা হয়েছিল এবং কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হয়েছিল এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় ঠিক কোন খাবার খাওয়ার পর অসুস্থতা শুরু হয়েছিল এবং খাবারে কোনও দূষণ হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন অসুস্থ গ্রামবাসীরা।