৩৩ বছর বয়সে প্রথমবার ভারতীয় টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার সারাংশ জৈন। শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগামী ১৫ অগাস্ট থেকে শুরু হতে চলা দুই টেস্টের সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ওয়াশিংটন সুন্দর ছিটকে যাওয়ায় নির্বাচকরা ভরসা রাখছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপর। সেটা যে তাঁর কাছে এক দীর্ঘ অধ্যাবসায়ের পুরস্কার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সারাংশের নিজের স্পষ্ট বক্তব্য, "বয়স শুধুই একটি সংখ্যা।"
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সারাংশ বলেন, "এখন ফিল্ডিংয়ের মান এতটাই উন্নত যে মাঠে আপনার বয়স বোঝাই যায় না। আমার বিশ্বাস ছিল, এ বার না হলে আগামী এক-দু'বছরের মধ্যে অবশ্যই ভারতীয় দলে ডাক পাব। আমি নিশ্চিত ছিলাম, এক দিন না এক দিন দেশের জার্সি গায়ে চাপাতে পারবই।" ১৯৯৫ সালের পর থেকে ৩৩ বছর বা তার বেশি বয়সে টেস্ট অভিষেক হওয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন শুধু রবিন সিং ও রাকেশ শুক্লা। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে সারাংশের নামও।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যই জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে তাঁর সামনে। গত দলীপ ট্রফিতে মধ্যাঞ্চলের হয়ে ১৩৬ রান ও ১৬ উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন তিনি। দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ফাইনালে প্রথম ইনিংসে শতরানের পাশাপাশি ম্যাচে আট উইকেট নিয়ে সেন্ট্রাল জোনকে ৬ উইকেটের জয় এনে দেওয়ার নেপথ্য নায়ক ছিলেন সারাংশ। ৫৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২,২২৩ রান, দু'টি শতরান এবং ১৮৮টি উইকেট।
নিজের শুরুটা স্মরণ করতে গিয়ে সারাংশ বলেন, "২০১৪-১৫ মরসুমে তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে অভিষেক রঞ্জি ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়েছিলাম। সেই দলে দীনেশ কার্তিকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিলেন। তার পর থেকে ধারাবাহিকভাবেই নিজের কাজ করে গিয়েছি। আজ সেই পথ ধরেই ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলাম।" তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হল, একই জায়গায় বারবার বল ফেলতে পারা। সেই ধারাবাহিকতাই ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করে।
অবশ্য এর পরেও শ্রীলঙ্কার স্পিন-সহায়ক উইকেট নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে রাজি নন সারাংশ। তাঁর কথায়, "পিচ কেমন হবে বা কটা উইকেট পাব, তা নিয়ে এখন ভাবছি না। নিজের শক্তির উপরেই ভরসা রাখতে চাই।" ভারতীয় স্পিনের দুই কিংবদন্তি রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং হরভজন সিং-কেই আদর্শ মানেন এই অফস্পিন অলরাউন্ডার। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে শিবির চলাকালীন হরভজনের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শও তাঁর ক্রিকেটজীবনে বড় প্রেরণা হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।