JAZZBAAT 24 BANGLA
১৭ অক্টো ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
Breaking
মহাষষ্ঠীতে মেরিনার্সের দারুণ উপহার, দিল্লিকে হারিয়ে জয়ে ফিরল মোহনবাগান 'ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না', সমাজমাধ্যমে সরব মমতা দু’বছরের বেশি জেলবন্দি, আরজি কর দুর্নীতিতে জামিন সন্দীপ ঘোষের কাঁধে চোট অর্শদীপের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষ টি-টোয়েন্টিতে দলে ভুবনেশ্বর সান্ডারল্যান্ড ও জুভেন্তাসের প্রত্যাবর্তন, সালজবুর্গকে ৪ গোল দিল এসি মিলান ইয়ামলের জাদুতে অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা, এবার কঠিন পরীক্ষা বেতিসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা মহাষষ্ঠীতে মেরিনার্সের দারুণ উপহার, দিল্লিকে হারিয়ে জয়ে ফিরল মোহনবাগান 'ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না', সমাজমাধ্যমে সরব মমতা দু’বছরের বেশি জেলবন্দি, আরজি কর দুর্নীতিতে জামিন সন্দীপ ঘোষের কাঁধে চোট অর্শদীপের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষ টি-টোয়েন্টিতে দলে ভুবনেশ্বর সান্ডারল্যান্ড ও জুভেন্তাসের প্রত্যাবর্তন, সালজবুর্গকে ৪ গোল দিল এসি মিলান ইয়ামলের জাদুতে অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা, এবার কঠিন পরীক্ষা বেতিসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা

সূর্যের চেয়ে দীর্ঘজীবী নক্ষত্রের চারপাশে ‘সুপার পৃথিবী’র খোঁজে বিজ্ঞানীরা

সূর্যের চেয়ে দীর্ঘজীবী নক্ষত্রের চারপাশে ‘সুপার পৃথিবী’র খোঁজে বিজ্ঞানীরা
ছবি: গ্রাফিক্স এবং এআই দ্বারা নির্মিত

বিশেষ প্রতিবেদন: পৃথিবী আছে, জল আছে, প্রাণও আছে। কিন্তু প্রাণের বিকাশের জন্য এই নীল গ্রহটিই কি মহাবিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ ঠিকানা? নাকি দূর মহাকাশে এমন কোনও গ্রহ রয়েছে, যেখানে পৃথিবীর চেয়েও অনুকূল পরিবেশে প্রাণের জন্ম হতে পারে, বিবর্তন ঘটতে পারে আরও দীর্ঘ সময় ধরে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে আসছে এমনই এক সম্ভাবনা। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, পৃথিবীর মতো গ্রহের খোঁজের পাশাপাশি এমন গ্রহের সন্ধানেও নজর দেওয়া উচিত, যেখানে প্রাণের বিকাশের পরিস্থিতি আরও অনুকূল হতে পারে। এই সম্ভাব্য গ্রহগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ বা অতিবাসযোগ্য গ্রহ।
এখনও পর্যন্ত পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অন্য কোনও গ্রহে প্রাণের সন্ধান মেলেনি। কিন্তু মহাবিশ্বে অসংখ্য নক্ষত্র এবং তাদের চারপাশে বিপুল সংখ্যক গ্রহের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানের পরিধি বাড়িয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের জন্য যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, অন্য কোথাও কি তার চেয়েও অনুকূল পরিস্থিতি থাকতে পারে?

পৃথিবীর চেয়ে বড়, প্রাণের জন্য আরও অনুকূল?

অতিবাসযোগ্য গ্রহের ধারণা অনুযায়ী, পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় পাথুরে গ্রহে প্রাণের বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এমন গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে। ভরও হতে পারে পৃথিবীর প্রায় দ্বিগুণ। তবে এগুলি সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য, কোনও আবিষ্কৃত গ্রহের নিশ্চিত মাপ নয়। বিজ্ঞানীদের অনুমান, বেশি ভরের কারণে কোনও কোনও গ্রহের অভিকর্ষ বল শক্তিশালী হতে পারে। তাতে বায়ুমণ্ডল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে। বায়ুমণ্ডল গ্রহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে উপযুক্ত গ্যাসের সংমিশ্রণ থাকলে সেখানে তুলনামূলক স্থিতিশীল আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

গ্রহের অভ্যন্তরে বড় লৌহকেন্দ্র থাকলে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই চৌম্বকক্ষেত্র মহাকাশ থেকে আসা কিছু ক্ষতিকর কণার প্রভাব থেকে গ্রহকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু আকার বা ভর দিয়ে কোনও গ্রহের বাসযোগ্যতা বিচার করা যায় না। বায়ুমণ্ডলের গঠন, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা, তরল জলের উপস্থিতি, ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা এবং নক্ষত্র থেকে আসা বিকিরণ—সব কিছুর উপরই নির্ভর করে প্রাণের বিকাশের সম্ভাবনা। অর্থাৎ, পৃথিবীর চেয়ে বড় হলেই কোনও গ্রহ প্রাণের জন্য বেশি উপযুক্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং কোন কোন শর্ত একসঙ্গে থাকলে প্রাণের বিকাশ ও দীর্ঘস্থায়ী অস্তিত্ব সম্ভব হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

অগভীর সমুদ্র আর দ্বীপপুঞ্জে প্রাণের বিপুল সম্ভাবনা?

অতিবাসযোগ্য গ্রহের সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে সমুদ্র ও স্থলভাগের বিন্যাসও। বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা, বিস্তীর্ণ অগভীর সমুদ্র, হ্রদ এবং অসংখ্য দ্বীপযুক্ত কোনও গ্রহ প্রাণের বৈচিত্রের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতেও অগভীর সমুদ্র, প্রবালপ্রাচীর, উপকূলীয় অঞ্চল এবং দ্বীপপুঞ্জে নানা ধরনের জীবের বাস। সেখানে আলো, জল, পুষ্টি এবং বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ জীববৈচিত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অন্য কোনও গ্রহে এ ধরনের পরিবেশ আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে থাকলে সেখানে জীবনের জন্য বৈচিত্রপূর্ণ আবাসস্থল তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই ধারণাও এখনও তাত্ত্বিক। দূরের কোনও গ্রহে কতটা জল রয়েছে, তার সমুদ্র অগভীর না গভীর, কিংবা সেখানে দ্বীপপুঞ্জ আছে কি না, তা নির্ভুল ভাবে জানা কঠিন। প্রথমে গ্রহটির আকার, তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডল এবং নক্ষত্র থেকে তার দূরত্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তার পরেই বোঝা সম্ভব, সেখানে প্রাণের বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কি না।

সূর্যের বদলে কমলা নক্ষত্রের দিকে নজর কেন?

এই অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে ‘কে-ডোয়ার্ফ’ বা কে-শ্রেণির নক্ষত্র। এগুলি সূর্যের তুলনায় ছোট, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং দেখতে কমলা রঙের। সূর্যের তুলনায় এরা জ্বালানি ধীরে খরচ করে। ফলে বহু বিলিয়ন বছর ধরে আলো ও তাপ দিতে পারে। এই দীর্ঘস্থায়িত্বই বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও গ্রহে প্রাণের জন্ম হলেও জটিল জীবের বিকাশের জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে। পৃথিবীতেও জীবনের ইতিহাস কয়েকশো কোটি বছরের। তাই যে নক্ষত্র দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে পারে, তার চারপাশে থাকা উপযুক্ত গ্রহে প্রাণের বিকাশের সুযোগ বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। সূর্যের মতো নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তার প্রভাব গ্রহের তাপমাত্রা ও জলচক্রের উপর পড়তে পারে। অন্য দিকে, কে-শ্রেণির নক্ষত্র সাধারণত ধীরগতিতে বিবর্তিত হয়। ফলে তাদের উপযুক্ত দূরত্বে থাকা গ্রহে দীর্ঘ সময় ধরে বাসযোগ্য পরিবেশ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানেও সতর্কতা জরুরি। কোনও নক্ষত্র দীর্ঘজীবী হলেই তার চারপাশের গ্রহে প্রাণের জন্ম হবে, এমন নয়। গ্রহটির বায়ুমণ্ডল, তরল জল, রাসায়নিক উপাদান এবং নক্ষত্রের বিকিরণের প্রকৃতি—সব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা তাই নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি তার চারপাশের গ্রহগুলির পরিবেশও খতিয়ে দেখতে চাইছেন।

কমলা আলোয় গাছের বৃদ্ধি, নতুন প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের

কে-শ্রেণির নক্ষত্র থেকে আসা আলো প্রাণের বিকাশে কী ভূমিকা নিতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা চলছে পরীক্ষাগারেও। জার্মানির বার্লিনের একটি গবেষণাগারে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইভা ভিলোভিচ কৃত্রিম কমলা আলো ব্যবহার করে বাগানের ক্রেস গাছের বৃদ্ধি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ওই আলোয় বেড়ে ওঠা গাছগুলি সূর্যালোকের অনুকরণে তৈরি আলোয় বেড়ে ওঠা গাছের তুলনায় দ্রুত এবং বেশি লম্বা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ভিলোভিচ বর্তমানে জার্মানির লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের সঙ্গে যুক্ত। উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ে এই পরীক্ষা অন্য নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে আলোকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। নক্ষত্রের আলোর বর্ণালি আলাদা হলে সেই প্রক্রিয়া কী ভাবে কাজ করবে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরীক্ষাগারে একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধি থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না যে অন্য গ্রহে উদ্ভিদ বা জটিল প্রাণের বিকাশ হবেই। বিভিন্ন প্রজাতির জীবের আলোর প্রয়োজন আলাদা। অন্য গ্রহে বায়ুমণ্ডল, তাপমাত্রা ও রাসায়নিক পরিবেশও পৃথিবীর মতো নাও হতে পারে। তাই এই ধরনের পরীক্ষা সম্ভাবনার দিক নির্দেশ করতে পারে, কিন্তু অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়।

পৃথিবীও চিরকাল বাসযোগ্য থাকবে না

পৃথিবী আজ বিপুল জীববৈচিত্রের আশ্রয় হলেও তার বাসযোগ্যতা চিরস্থায়ী নয়। সূর্যের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তার প্রভাব পৃথিবীর তাপমাত্রা ও জলচক্রের উপর পড়তে পারে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, প্রায় ৫০ কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবী এমন অবস্থায় পৌঁছতে পারে, যখন উদ্ভিদ ও প্রাণী-সহ জটিল জীবনের অস্তিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।এটি বহু দূর ভবিষ্যতের একটি বৈজ্ঞানিক অনুমান, বর্তমান  সময়ের কোনও তাৎক্ষণিক বিপদের পূর্বাভাস নয়। পৃথিবীর বাসযোগ্যতা নির্ধারণে সূর্যের বিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর, ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এবং জীবমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

এই দীর্ঘ সময়ের হিসাব থেকেই অন্য নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্রহ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কোনও গ্রহে যদি উপযুক্ত তাপমাত্রা, তরল জল এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, তবে সেখানে প্রাণের বিকাশের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু পরিবেশ অনুকূল হওয়া আর প্রাণের জন্ম হওয়া এক বিষয় নয়। প্রাণের উৎপত্তির জন্য ঠিক কোন কোন শর্ত অপরিহার্য, তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়।
অতিবাসযোগ্য গ্রহের ধারণা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী রেনে হেলার এবং জন আর্মস্ট্রং ২০১৪ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, অন্য গ্রহ খোঁজার ক্ষেত্রে শুধু পৃথিবীর অনুরূপ পরিবেশের উপর নির্ভর করলে চলবে না। এমন গ্রহগুলিকেও বিবেচনায় আনতে হবে, যেগুলি পৃথিবীর থেকে আলাদা হলেও প্রাণের বিকাশের জন্য অনুকূল হতে পারে।

দূরবীনে খোঁজ, বায়ুমণ্ডলে প্রাণের চিহ্ন

সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজতে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী মহাকাশ দূরবীন ও পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির উপর নির্ভর করতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘প্ল্যাটো’ অভিযান ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনায় রয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য বহু নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে তাদের চারপাশে থাকা গ্রহগুলির সন্ধান পাওয়া এবং সেই গ্রহগুলির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। কোনও সম্ভাব্য গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেলেই অবশ্য গবেষণা শেষ হবে না। তার বায়ুমণ্ডলে কী কী গ্যাস রয়েছে, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত, তরল জল থাকার সম্ভাবনা আছে কি না এবং নক্ষত্র থেকে কতটা বিকিরণ আসে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীন কিছু দূরের গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণে সাহায্য করতে পারে। চিলিতে নির্মীয়মাণ ইউরোপীয় অতিবৃহৎ দূরবীনও ভবিষ্যতে দূরের গ্রহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া, ২০৪০-এর দশকে নাসার পরিকল্পিত ‘হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরি’ অভিযানের লক্ষ্যও দূরের গ্রহে প্রাণের সম্ভাব্য চিহ্ন খুঁজে দেখা। বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের উপস্থিতি প্রাণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু কোনও একটি গ্যাস পাওয়া মানেই সেখানে প্রাণ রয়েছে, এমন নয়। প্রাণের অনুপস্থিতিতেও কিছু ভূতাত্ত্বিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় একই ধরনের গ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই একাধিক তথ্য ও প্রমাণ মিলিয়ে তবেই বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য জৈব কার্যকলাপ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন।

পৃথিবীর বাইরে প্রাণ, এখনও অমীমাংসিত প্রশ্ন

পৃথিবীই এখনও পর্যন্ত প্রাণের অস্তিত্ব-প্রমাণিত একমাত্র গ্রহ। অন্য কোথাও প্রাণ রয়েছে, এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। তবু মহাবিশ্বে অসংখ্য নক্ষত্র এবং তাদের চারপাশে বিপুল সংখ্যক গ্রহের সন্ধান পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের কাছে অনুসন্ধানের নতুন দিগন্ত খুলেছে। অতিবাসযোগ্য গ্রহের ধারণা সেই অনুসন্ধানে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। পৃথিবীর মতো পরিবেশ খোঁজার পাশাপাশি এমন গ্রহগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেগুলি আকারে কিছুটা বড়, দীর্ঘস্থায়ী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে এবং যেখানে তরল জল ও স্থিতিশীল আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্ভাবনা আর আবিষ্কার এক নয়। পৃথিবীর চেয়ে বেশি প্রাণবান্ধব গ্রহ সত্যিই রয়েছে কি না, তা জানতে আরও পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও প্রমাণ প্রয়োজন। আগামী দিনের মহাকাশ অভিযান হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করবে। আর যদি এমন কোনও গ্রহের সন্ধান মেলে, তা হলে প্রাণের বিকাশের জন্য মহাবিশ্ব কতটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণা অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

6 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

বিক্রম-১-এর সাফল্যে ভর করে আমেরিকার বরাত পেল ভারতের স্কাইরুট
মতামত

বিক্রম-১-এর সাফল্যে ভর করে আমেরিকার বরাত পেল ভারতের স্কাইরুট

বিশেষ প্রতিবেদন: মহাকাশে ভারতের বেসরকারি রকেটশিল্পের মুকুটে আরও একটি পালক। প্রথম উড়ানেই কক্ষপথে পৌঁছে নজির গড়েছিল ভারতের বেসরকারি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের রকেট বিক্রম-১। এ বার সেই সাফল্যের হাত ধরেই আমেরিকার একটি ম...

১৫ অক্টো ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম · 3 মিনিট
আন্দামানের রাজেশ্বরীর সাফল্যে বদল গ্রামীণ স্বনির্ভরতার সংজ্ঞা
মতামত

আন্দামানের রাজেশ্বরীর সাফল্যে বদল গ্রামীণ স্বনির্ভরতার সংজ্ঞা

বিশেষ প্রতিবেদন: উঠোনে ঘুরে বেড়াত মাত্র পাঁচটি দেশি মুরগি। পোলট্রি ব্যবসার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে ছিল না কোনও অভিজ্ঞতা। সেই সামান্য পুঁজি আর স্বনির্ভর হওয়ার ইচ্ছেকে সম্বল করেই পথচলা শুরু করেছিলেন দক্ষিণ আন্দামানের ওয়...

১৫ অক্টো ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম · 4 মিনিট
মহোৎসবের রংবদল
মতামত

মহোৎসবের রংবদল

বিশেষ প্রতিবেদন: বঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির সম্পর্ক বহু পুরনো। তবে চলতি বছরের শারদোৎসবে যে অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী থাকছে বাংলা, তা এককথায় ঐতিহাসিক। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। নবান্নে শাসক বদলের সঙ্...

১৫ অক্টো ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম · 3 মিনিট
সিপিএমকে আটকে শুভেন্দুর সরকার কি আসলে ভিন্নমতকেই কাঠগড়ায় তুলছে?
মতামত

সিপিএমকে আটকে শুভেন্দুর সরকার কি আসলে ভিন্নমতকেই কাঠগড়ায় তুলছে?

বিশেষ প্রতিবেদন: একটি বইয়ের স্টল। কয়েকটি টেবিল, বইয়ের স্তূপ, আর পথচলতি মানুষের সঙ্গে দু’দণ্ড কথা বলার সুযোগ। এতেই যদি সরকারের অস্বস্তি হয়, তা হলে সেই অস্বস্তির কারণ খুঁজতে হবে বইয়ের পাতায়, নাকি ক্ষমতার রাজনীতিতে? দুর্গাপ...

১৫ অক্টো ২০২৬, ০৩:০১ পিএম · 8 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.