দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালিতে একটি আলট্রাসোনোগ্রাফি ও জেনেটিক ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সেবাশ্রয় শিবিরে ইউএসজি মেশিন ব্যবহার করে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জীবন আরোগ্য আলট্রাসোনোগ্রাফি ও জেনেটিক ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ক্লিনিকে কোনও ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, নিয়ম মেনে অনুমতি না নিয়েই নোদাখালির ওই নার্সিংহোম থেকে একটি ইউএসজি মেশিন সেবাশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ওই মেশিন ব্যবহার করে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন।
সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের একটি দল নোদাখালির জীবন আরোগ্য হাসপাতালে যায়। সেখানে আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সেই কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ইউএসজি মেশিনটি ইতিমধ্যেই পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেটি ডায়মন্ড হারবার থানার মালখানায় রাখা হয়েছে।
এর পরেই জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে ক্লিনিকটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লাইসেন্স জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকে কোনও পরীক্ষা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবা চালানো যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেবাশ্রয় শিবির চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই শিবিরকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসা পরিষেবায় অনিয়ম এবং ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে। সেবাশ্রয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত চলছে। ইউএসজি মেশিন কীভাবে শিবিরে পৌঁছল, সেখানে কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের অভিযোগের সত্যতা কতটা, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।