আজকের বাজারে ১০ টাকায় এক কাপ চা আর দু'টি বিস্কুট জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মাত্র ১০ টাকায় পেটভরে দুপুরের খাবার! শুধু ভাত-ডাল নয়, সঙ্গে দু'রকম তরকারি, পাপড়, এমনকি পেঁয়াজও। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমনই একটি দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই লক্ষ লক্ষ মানুষ থমকে গিয়েছেন। কারণ, এই গল্প শুধু একটি খাবারের নয়; এটি এমন এক কর্মসংস্কৃতির গল্প, যেখানে কর্মীর পেট ভরে খাওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভিডিয়োর নায়ক আনন্দ কুমার। পেশায় নিরাপত্তারক্ষী। প্রতিদিনের মতো দুপুরে খেতে বসে তিনি মোবাইলের ক্যামেরা অন করেন। কোনও বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ নয়, কোনও দামি খাবারের প্রদর্শনীও নয়। ধাতুর একটি সাধারণ থালা। তাতেই সাজানো রয়েছে গরম ভাত, ডাল, সয়াবিনের তরকারি, করলার ভাজা, একটি মুচমুচে পাপড় এবং পাশে কয়েক টুকরো পেঁয়াজ। তারপরই তিনি জানালেন, এই গোটা খাবারের জন্য তাঁকে খরচ করতে হয় মাত্র ১০ টাকা। কারণ, তাঁর সংস্থা কর্মীদের জন্য ভর্তুকি দিয়ে এই খাবারের ব্যবস্থা করেছে।
ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ তা দেখে ফেলেন। মন্তব্যের ঘরে ভিড় জমে প্রশংসার। কেউ লিখেছেন, "অনেক অফিসের ক্যান্টিনেও এত ভালো খাবার মেলে না।" আবার কেউ বলেছেন, "একজন কর্মীর প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ববোধ ঠিক এমনই হওয়া উচিত।" খাবারের পরিমাণ, পুষ্টিগুণ এবং অস্বাভাবিক কম দাম— সব মিলিয়ে বিস্মিত নেটিজেনদের বড় অংশ।
ভিডিয়োটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য খাবারের বাহার নয়, তার অন্তর্নিহিত বার্তা। নিরাপত্তারক্ষীদের কাজ সহজ নয়। দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন, দীর্ঘ শিফট, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সতর্ক থাকা— এই পেশায় শারীরিক পরিশ্রমই মূল ভরসা। সেই মানুষগুলির জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ছোট্ট ভিডিও যেন তা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে।
ভারতের বহু সংস্থায় কর্মীদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ক্যান্টিনের ব্যবস্থা থাকলেও, এমন মানের খাবার এত কম দামে পাওয়া এখন বিরল বলেই মনে করছেন অনেকেই। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে যেখানে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খরচ সামলানোই কঠিন, সেখানে ১০ টাকায় এমন মধ্যাহ্নভোজ যেন এক অন্য বাস্তবতার ছবি।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও তাই শুধু খাবারের ভিডিও হয়ে থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে শ্রমজীবী মানুষের সম্মান, কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা এবং মানবিক কর্মসংস্কৃতি নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্র। অনেকেই লিখেছেন, কর্মীদের ভালোভাবে কাজ করাতে চাইলে শুধু বেতন বাড়ালেই হয় না, তাঁদের সুস্থতা এবং মর্যাদার দিকেও সমান নজর দিতে হয়।
একটি সাধারণ দুপুরের খাবারের ভিডিওই শেষ পর্যন্ত মনে করিয়ে দিল— মানুষের মন জয় করতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও একটি ভরপেট থালাই বলে দেয়, একটি প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের কতটা আপন মনে করে।