কার্গিল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার সকালে কলকাতার বিটি রোডে কার্গিল যুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনা কণাদ ভট্টাচার্যের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে তিনি বলেন, কলকাতায় দাঁড়িয়ে কেউ যদি ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ বা ‘আজাদি’ স্লোগান তোলেন, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না। এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, তাঁদের যেন সরাসরি বাড়ি ফিরতে না হয়ে সরকারি হাসপাতালের ওপিডি ঘুরে ফিরতে হয়।
কার্গিল যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী শহিদ কণাদ ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শমীক বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগ, কাশ্মীর সমস্যা এবং পাকিস্তানের ভূমিকার প্রসঙ্গও। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে ভারতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষিতেই দেশবিরোধী স্লোগান বা কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক নিট ইস্যু ঘিরে ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও টানেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রভাব কলকাতাতেও পড়েছে। শুক্রবার ধর্মতলায় হওয়া ছাত্র মিছিলের সময় হিংসা, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠার ঘটনাকে তিনি তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, কিছু দেশবিরোধী শক্তি এই ধরনের আন্দোলনের আড়ালে নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা করছে।
শমীক ভট্টাচার্য কমিউনিস্টদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে অতীতেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি কাজ করেছে এবং এখনও সেই মানসিকতা বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং প্রয়োজনে পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ষড়যন্ত্র বা বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগানকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
কার্গিল বিজয় দিবসের মঞ্চ থেকে দেওয়া এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ শমীকের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, দেশের অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে কঠোর বার্তা দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। ফলে কার্গিল দিবসের আবেগঘন পরিবেশে দেওয়া এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।