জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। STF সূত্রে দাবি, তদন্তকারীদের জেরায় হামিম এমন কিছু তথ্য দিয়েছে, যা ঘিরে আরও ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করেই তাঁর বাড়ির আশেপাশে রেইকি চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
STF সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চিনার পার্ক ও নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছিল সে। শুধু বাড়ির সামনে যাওয়া নয়, এলাকার পরিস্থিতি এবং বাড়ির আশপাশের পরিকাঠামোও খতিয়ে দেখেছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের। তবে রেইকির সময় কোনও ছবি বা ভিডিয়ো করেনি হামিম।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এলাকায় বিপুল সংখ্যক CCTV ক্যামেরা থাকার কারণেই ছবি বা ভিডিয়ো তোলার ঝুঁকি নেয়নি অভিযুক্ত। ফলে অত্যন্ত সতর্কভাবেই গোটা এলাকা ঘুরে দেখেছিল সে। তবে কেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে রেইকি করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।
STF-এর সন্দেহ, হামিমের এই রেইকি কোনও বড়সড় পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এই রেইকি কি হামিম একাই চালিয়েছিল? নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল? হামিমের জেরায় উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পাশাপাশি, রেইকির সঙ্গে কোনও জঙ্গি মডিউল বা বাইরের কোনও হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপরে হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজ়িং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। তার পরে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। পরে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার হয় আদিত্য সিং নামে একজন। সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে STF তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।