ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় রায় লেখার সময় বিচারকদের আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘হারানো সতীত্ব’ বা ‘লজ্জা নষ্ট হওয়া’র মতো শব্দ কিংবা নারীকে দোষারোপ করে এমন কোনও মন্তব্য রায়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। যৌন নির্যাতনের মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে ভুক্তভোগীর সম্মতি, মর্যাদা ও সুরক্ষা।
সোমবার প্রকাশিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা সামনে এসেছে। প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১২৫টি ট্রায়াল কোর্টের রায় পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। ‘Judgments and Gender: Sensitivity and Compassion in Writing Judgments’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিচারব্যবস্থায় লিঙ্গভিত্তিক ধারণা এবং প্রচলিত সামাজিক স্টেরিওটাইপের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে একজন নারীর পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন, যৌন ইতিহাস বা সামাজিক আচরণকে কেন্দ্র করে কোনও পূর্বধারণা তৈরি করা উচিত নয়। কোনও নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র বা অতীত সম্পর্ককে বিচার করার বিষয় হিসেবে সামনে আনা অনুচিত।
আদালত আরও সতর্ক করেছে, রায়ে এমন কোনও ভাষা ব্যবহার করা যাবে না, যা ভুক্তভোগীকে পরোক্ষভাবে দায়ী করে বা তাঁর প্রতি সামাজিক কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করে। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, আদালতের ভাষা শুধু আইনি সিদ্ধান্তের অংশ নয়, তা সমাজের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, যৌন হিংসার মামলায় প্রচলিত কিছু শব্দ ও ধারণা নারী সম্পর্কে দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্যকে প্রতিফলিত করে। তাই বিচারিক নথিতে এমন ভাষা পরিহার করা প্রয়োজন, যা একজন নির্যাতিত ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় আরও মানবিক এবং survivor-centric বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। আদালতের মতে, ন্যায়বিচার শুধু অপরাধের বিচার করাই নয়, একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করাও বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।




