নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্যানেল থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রকে প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট। নতুন আইনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য যে তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করা হয়েছে, সেখানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আগে এই প্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত মন্ত্রীর পরিবর্তে দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
এই পরিবর্তনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। শুক্রবার মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের কাছে সর্বোচ্চ আদালত জানতে চায়, কেন নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হল।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, তিন সদস্যের কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্যের অভাব তৈরি হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে নিরপেক্ষতা শুধু বজায় রাখাই নয়, সেই নিরপেক্ষতা সাধারণ মানুষের কাছেও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকলেই তাঁরা অসৎ উদ্দেশ্যে বা গণতন্ত্রের পরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক পদ এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থা রাখা প্রয়োজন।
তবে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত পাল্টা স্পষ্ট করেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবিশ্বাস করার নয়। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ কমিটিতে বর্তমানে হিসাব দাঁড়াচ্ছে ২:১—প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দু’জন এবং বিরোধী দলের পক্ষে এক জন। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই কমিটিতে নিরপেক্ষতার কোনও দৃশ্যমান প্রতিফলন থাকা উচিত কি না।
বিচারপতি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। আদালত এমন দাবি করছে না যে বর্তমান ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে না। তবে সেই নিরপেক্ষতা যেন বাইরে থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রের তরফে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪৫(৩) অনুচ্ছেদের আওতায় বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য, নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আগামী দিনে এই তিনটি বিষয়ই শুনানির কেন্দ্রে থাকতে পারে।