নয়াদিল্লি: তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবার আরও জোরালোভাবে পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে করা মামলার শুনানি আজ, ২৮ সেপ্টেম্বর, শীর্ষ আদালতে হওয়ার কথা। একই সঙ্গে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বৃহত্তর বিবাদ নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চলছে।
মামলাটি করেছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়ক দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা করে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে গিয়েছেন। তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য গত জুলাইয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আবেদনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হয়নি—এই অভিযোগেই শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন শিবির।
এই ১০ বিধায়কের তালিকায় রয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিধানসভা এবং আদালত—দুই জায়গাতেই আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে বিধানসভা সচিবালয়ও। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ঋতব্রত শিবিরের ওই ১০ বিধায়ককে নোটিস পাঠানো হয়। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, এতদিন রাজনৈতিক টানাপোড়েনে থাকা বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার দলত্যাগ-বিরোধী প্রক্রিয়ার মধ্যেও ঢুকে পড়েছে।
এর মধ্যেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। কমিশন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে মূল ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিল, দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কতটা সময় প্রয়োজন। আদালত দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিল এবং কমিশনকে একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা জানাতে বলা হয়েছিল। পরবর্তী শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়।
ফলে আজকের শুনানিতে নজর থাকবে একাধিক বিষয়ে—ঋতব্রত শিবিরের ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগের অভিযোগে শীর্ষ আদালত কী অবস্থান নেয়, বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে কী আলোচনা হয় এবং তৃণমূলের নাম-প্রতীক সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশন কী সময়সীমা জানায়। রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি আইনি লড়াইটিও যে এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট।
