কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে বসতে চলেছে ব্রিকস সামিট। আগামী শনি ও রবিবার নয়াদিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে ভারত। সেখানেই থাকবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিতে শনিবার বিকেলেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
ব্রিকস সামিটে উপস্থিত থাকবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা, মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফতেহ এল সিসি, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।
জানা গিয়েছে, আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে উদ্বোধন অনুষ্ঠান। প্রথমদিনের সম্মেলন শেষে প্রত্যেক দেশের অতিথীদের আপ্যায়ন করা হবে ভারত সরকারের তরফে। তাঁদের আপ্যায়ন করা হবে রাষ্ট্রপতি ভবনে। এরপরই রাতের খাবার অর্থাৎ নৈশভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে শি জিনপিং সহ অন্যান্য রাষ্ট্র নেতাদের সাথে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলার মুখরোচক একটি পদ সহ দেশের সব প্রান্তের বিখ্যাত খাবারের স্বাদ পাবেন অতিথিরা। বিশেষ আইটেমের মধ্যে থাকছে কাজু কিসমিস সহ গোবিন্দ ভোগ চালের পায়েস, বর্ধমান স্টাইলের মিহিদানা, রসগোল্লা, মাখা সন্দেশ, মোচার ঘন্ট এবং ইলিশ ভাপা৷ সেই সঙ্গে থাকবে কাশ্মীরি মশলাদার আখরোট থেকে মহারাষ্ট্রের ভাকরওয়াড়ি, মিনি কচুরি, বাংলার কুচো নিমকি এবং তামিলনাড়ুর মুরুক্কু। আরও থাকবে কাশ্মীরী পোলাও, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, লখনৌয়ের গলৌটি কাবাব, ডেকানি তড়কা, দক্ষিণী স্টাইল ফ্রায়েড ইডলি, মিলেট খিচুড়ির মতো নানা পদ৷
ইতিমধ্যে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বের একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা দিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন। ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বিশেষ নজর রয়েছে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি নৈশভোজে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় শুভেন্দুর নাম থাকায় রাজনৈতিকভাবেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপস্থিতিও সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এই আবহে একই নৈশভোজে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চের এই অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি এখন নজর কাড়তে চলেছে।




