নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যখন বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ঠিক তখনই সভাকক্ষে ফোন ঘাঁটতে ব্যস্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। শুধু তাই নয়। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই মোবাইলের পর্দায় একের পর এক ছোট ভিডিয়ো বা রিল স্ক্রল করছেন তিনি। ক্যামেরায় ধরা পড়ল এমনই এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। যা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজ মাধ্যমে। আর রাষ্ট্রনেতাদের গুরুগম্ভীর কূটনৈতিক আবহে এ হেন দৃশ্য দেখে নেটাগরিকদের একাংশের মন্তব্য, "নেতারাও তো আমাদেরই মতো!"
তবে আল-শারা ঠিক কী দেখছিলেন বা কাউকে বার্তা পাঠাচ্ছিলেন কি না, ভিডিয়োটি দেখে তা নিশ্চিতভাবে বলার উপায় নেই। সমাজ মাধ্যমে কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি রিল দেখার পাশাপাশি সেগুলী অন্যদের সঙ্গে ভাগও করছিলেন। কিন্তু ভাইরাল ফুটেজে তার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই। বরং ফোনে তাঁর আঙুল চালানোর দৃশ্যটুকুই দেখা গিয়েছে। এই নিয়েই শুরু হয়েছে নানা রকম রসিকতা। কেউ লিখেছেন, "এতক্ষণ বক্তৃতা শুনলে আমিও রিল দেখতাম!" আবার কেউ কেউ কটাক্ষও করেছেন তাঁর অতীতের প্রসঙ্গ টেনে।
ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে নিজের বক্তৃতার আগে এই কাণ্ড সামনে এলেও, পরে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে আল-শারার বক্তব্য। নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইজরায়েলের ঘোষিত নিরাপত্তা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রথম শর্ত। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ারই ভূখণ্ড। ফলে এই বিষয়ে কোনও আলোচনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় এ বার আল-শারার দ্বিতীয় উপস্থিতি। ২০২৫ সালে প্রায় ছয় দশক পর প্রথম কোনও সিরীয় প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি এই মঞ্চে পা রাখেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আল-শারা। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম-এর সঙ্গে এক সময়ে আল-কায়দার যোগ ছিল এবং সংগঠনটিকে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। ক্ষমতায় আসার পর অবশ্য পশ্চিম ও আরব দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন আল-শারা। তবে সিরিয়ায় সাম্প্রদায়িক হিংসা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।