নিউজ ডেস্ক: দ্রাবিড় রাজনীতির স্পর্শকাতর স্নায়ু ‘ভাষা বিতর্কে’ ঘা লাগতেই তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোল তৈরি হলো তামিলনাড়ুতে। আর সেই আঁচ গায়ে লাগার আগেই কড়া পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। রাজ্যের দীর্ঘদিনের অনুসৃত দ্বিভাষা নীতি ভেঙে রাজ্য সড়কের ধারে হিন্দি পথনির্দেশিকা বোর্ড বসানোর ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়ে দুই সরকারি সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করল তামিলনাড়ুর টিভিকে-কংগ্রেস জোট সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলায়। সাথনকুলম-নাজারেথ রাজ্য সড়কের পাশে তামিল ও ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি হরফে লেখা একটি পথনির্দেশিকা সংবলিত বোর্ড প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্যামেরাবন্দি করা সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দাবানলের মতো বিতর্ক ছড়ায়। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তামিল ভাষাপ্রেমীরা। বিষয়টি নজর এড়ায়নি বিরোধীদেরও।
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে এবং পিএমকে এই ইস্যুতে ময়দানে নামতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি। ডিএমকে প্রধান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, এত দিন তামিলনাড়ুকে লড়তে হতো কেন্দ্রের হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার কৌশলের বিরুদ্ধে, আর এখন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা দলই সেই একই পথে হাঁটছে।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বিজয় ও তাঁর দল যে ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের’ কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল, তামিলনাড়ুর বুকে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া কি সেই পরিবর্তনেরই নমুনা? অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেয় ডিএমকে।
বিরোধীদের তোলা এই আন্দোলনের হুমকি এবং তামিল ভাবাবেগের তীব্র অসন্তোষ আঁচ করে বিষয়টি বেশিদূর এগোতে দেননি অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয়। শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘স্টেট হাইওয়েজ়’ দফতরের সংশ্লিষ্ট দুই সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, তামিলনাড়ুর আইনসিদ্ধ ও ঘোষিত দ্বিভাষা নীতি অনুযায়ী সরকারি কাজে কেবল তামিল ও ইংরেজি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। কোনও স্তরে এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার তা বরদাস্ত করবে না। পাশাপাশি সমস্ত দফতরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ঐতিহ্য ও ভাষানীতির বিরুদ্ধাচরণ করলে ভবিষ্যতে যে কোনও পদমর্যাদার কর্মীর বিরুদ্ধেই এমন চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
