এবার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি তুললেন তসলিমা নাসরিন। তাঁকে আবার রাজনীতি করতে দেওয়ার আর্জিও জানালেন নির্বাসিত লেখিকা। প্রায় ২০ বছর পর কলকাতায় যেমন পা রেখেছেন তসলিমা, তেমনিও কি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন হাসিনা?
সমাজমাধ্যমের পাতায় তসলিমা লিখেছেন,'আজ দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভাষণ শুনলাম। দু'বছর দেশ থেকে দূরে থেকেও তাঁর কণ্ঠে ভাঙন ছিল না; ছিল দেশে ফেরার দৃঢ় সংকল্প। বত্রিশ বছর ধরে নির্বাসিত একজন মানুষ হিসেবে নিজের দেশে ফেরার এই আকুলতা আমি বুঝি। তাঁর দৃঢ়তা আমাকে স্পর্শ করেছে।'
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই নির্দেশ অগণতান্ত্রিক। ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, বিরোধী কণ্ঠ নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্র নয়। শেখ হাসিনার কথা বলার, আত্মপক্ষ সমর্থন করার এবং নিজের দেশে ফেরার পূর্ণ অধিকার আছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা উচিত। দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সরকার বা আদালত নয়, জনগণই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করুক।
পাশাপাশি, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলন নিয়েও সরব হন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর কথায়, 'পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পূর্ণ সত্য অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া দরকার। কিন্তু এত মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের জন্য তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নটিও তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না।
শেষে তসলিমা বলেন, 'হাসিনা দেশে ফিরুন—হত্যা, ফাঁসি বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার জন্য নয়; স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারের নিশ্চয়তা নিয়ে। তাঁর শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের যেমন বিচার হতে হবে, তেমনি তাঁর পতনের পর সংঘটিত হত্যা, লুটপাট, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারীর ওপর নিপীড়ন, সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তকের কণ্ঠরোধ এবং ইসলামি মৌলবাদী সহিংসতারও বিচার হতে হবে। ন্যায়বিচার বেছে বেছে করা যায় না।'