নিউজ ডেস্ক: “বার বার আসুন, বার বার আসুন, বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার।” মহালয়ার অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে এই কয়েকটি কথা শুনেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ৩২ বছরের নির্বাসিত জীবনে দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক বা সরকার তাঁকে এমন আশ্বাস দেননি বলে দাবি করেছেন তিনি। ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লেখিকা।
https://www.facebook.com/share/p/1HfdS9CqDB/
মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বদলে গেল সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা
পুজোর সময় কলকাতায় থাকতে না পারার আক্ষেপ ছিল তসলিমার মনে। সেই মনখারাপ থেকেই ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার জমকালো অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে টিকিটের ব্যবস্থা করে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগেই খবর পান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চান তিনি যেন তাঁর পাশে বসেন।
ফেসবুক পোস্টে তসলিমা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়কের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। মুখ্যমন্ত্রী যখন অনুষ্ঠানস্থলে আসেন, তখন তাঁকে ঘিরে মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এগিয়ে আসছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে নিজে গিয়ে ভিড় বাড়াতে চাননি লেখিকা। তাই নিজের আসনেই বসে ছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর অভিজ্ঞতা এমন দিকে মোড় নেয়, যা তিনি দীর্ঘদিন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
ভিড়ের মধ্যেও খোঁজ নিলেন শুভেন্দু
তসলিমার বর্ণনা অনুযায়ী, ড্রোন শো দেখার জন্য যখন দর্শকেরা মাঠে নামছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর খোঁজ নেন। তিনি ঠিক আছেন কি না, অনুষ্ঠান ভালো লাগছে কি না, সেই বিষয়েও জানতে চান শুভেন্দু। চারপাশে প্রবল আওয়াজ থাকায় সব কথা স্পষ্ট শুনতে না পেলেও মুখ্যমন্ত্রীর যত্ন ও আন্তরিকতা অনুভব করেছিলেন বলে জানিয়েছেন লেখিকা।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায় নেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কাছে এসে মাথা নুইয়ে নমস্কার জানান। পাল্টা নমস্কার করেন তসলিমাও। তখনই শুভেন্দু তাঁকে বলেন, “বার বার আসুন, বার বার আসুন, বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাগুলি শুনে কিছুক্ষণের জন্য বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন তসলিমা। তাঁর কথায়, সেই মুহূর্তে কীভাবে ধন্যবাদ জানাবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে মনে জমে থাকা আবেগ যেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না।
‘দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক এমন আশ্বাস দেননি’
নিজের পোস্টে তসলিমা লিখেছেন, বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গ দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক বা সরকারই তাঁকে আগে কখনও এত সহজ ভাষায় এমন আশ্বাস দেননি। তাঁর কাছে ‘বার বার আসুন’ কথাটির অর্থ শুধু আমন্ত্রণ নয়, বরং আবার বাংলায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্বস্তি ও গ্রহণযোগ্যতার বার্তা।
তসলিমার মতে, নির্বাসিত জীবনে নিজের পছন্দের জায়গায় ফিরে আসার ইচ্ছা অনেক সময় অনিশ্চয়তা ও মানসিক দ্বিধার জন্ম দেয়। সেই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর কথাগুলি তাঁকে নতুন করে আশ্বস্ত করেছে। বাংলায় আসতে চাইলে কেউ বিরক্ত হবেন না, তাঁর ফিরে আসাকে অনধিকার প্রবেশ বলে মনে করা হবে না এই অনুভূতিই তাঁকে আবেগতাড়িত করেছে।
পোস্টের শেষাংশে লেখিকা জানিয়েছেন, মহালয়ার অনুষ্ঠান থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের স্মৃতি নিয়ে ফেরার আশা করেছিলেন। কিন্তু সঙ্গে নিয়ে ফিরেছেন এমন কয়েকটি শব্দ, যার জন্য যেন বহু বছর অপেক্ষা করেছিলেন। তাঁর কথায়, বাংলাকে তিনি বরাবরই ভালোবেসেছেন। সেদিন মনে হয়েছিল, বাংলাও যেন তাঁকে কাছে ডেকে বলেছে ‘তুমি আমার।’
তসলিমার এই আবেগঘন পোস্ট ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে লেখিকার নিজের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে একটি বিষয় দীর্ঘ নির্বাসনের পরও বাংলার সঙ্গে তাঁর মানসিক টান এবং ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা।
