ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলে ২৯ বছরের শিক্ষিকা সন্ধ্যা করহানাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এক যুবক স্কুলে ঢুকে সন্ধ্যাকে বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাত্র ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যে একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পুরো ঘটনাটি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
ঘটনাটি সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সিকরোনা গ্রামের সরস্বতী সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে ঘটে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত যুবক মুখ ঢেকে স্কুলে ঢুকে প্রথমে সন্ধ্যার সঙ্গে দেখা করতে চায়। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হওয়ায় সন্ধ্যা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপরই অভিযুক্ত তাঁর গলা ধরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যার মুখ, গলা, বুক ও পেটে বারবার ছুরির আঘাত করা হয়। হামলার সময় তাঁকে মাটিতে পড়ে যেতেও দেখা যায়। এক পুলিশ আধিকারিকের দাবি, হামলাকারী অন্তত ২৫ বার ছুরি চালিয়েছিল। গোটা আক্রমণটি ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
সন্ধ্যার চিৎকার শুনে স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাঁর দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে আসে। ফলে তিনি পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর আহত শিক্ষিকাকে ফের কয়েকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে অভিযুক্ত মোটরবাইকে চেপে পালিয়ে যায়। বাইকটির কোনও নম্বর প্লেট ছিল না বলে জানা গিয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় সন্ধ্যাকে আল ফালাহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে ২১ বছরের অমিত নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে সে খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত প্রায় দু’বছর ধরে অমিত সন্ধ্যাকে চিনত। অভিযোগ, সন্ধ্যা বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে অস্বীকার করলেও অমিত তাঁকে অনুসরণ ও বিরক্ত করত। কয়েক দিন আগে এই হয়রানির বিরুদ্ধে সন্ধ্যা তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। তখন অমিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই অভিযোগের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সন্ধ্যা সিকরোনা স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়াতেন। তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।




