ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমন অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার ভোররাতে সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার কান্ডরা থানা এলাকা থেকে মাওবাদী সংগঠনের তিন নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে একটি একে-৪৭, একটি ৯ এমএম পিস্তল, প্রচুর কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানার কর্মাশোল গ্রামের বাসিন্দা মদন মাহাতো ওরফে শংকর। তিনি সিপিআই (মাওবাদী)-র রিজিওনাল কমিটির নেতা বলে দাবি পুলিশের। এছাড়া সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার নিমডি থানার বেনাডি গ্রামের সাগর সিং ওরফে বীরেন এবং তাঁর স্ত্রী মীরা পাহাড়িয়া ওরফে মিনা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বীরেন সংগঠনের সাব-জোনাল কমান্ডার এবং মীরা সাব-জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তিনজনের বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। মদন মাহাতোর মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। অন্যদিকে বীরেন এবং মীরা পাহাড়িয়ার মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে।
পুলিশের দাবি, সোমবার বাংলা, ঝাড়খণ্ড-সহ সাতটি রাজ্যের পুলিশের ডিজিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকের পর মাওবাদী দমনে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়। টেকনিক্যাল এবং ম্যানুয়াল সোর্সের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়।
এরপর মঙ্গলবার রাতে কান্ডরা থানার উদয়পুর গ্রামের একটি বাড়িতে বীরেনের আসার খবর পায় পুলিশ। খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী দ্রুত ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বীরেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং ওয়াকিটকি উদ্ধার হয়।
এরপর বীরেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, চান্ডিল থানা এলাকার কাঁদেরবেড়া গ্রামে মদন মাহাতো এবং মীরা পাহাড়িয়া আত্মগোপন করে রয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে দু’জনকেও গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের অনুমান, সম্প্রতি মাওবাদী পলিটব্যুরোর সদস্য মিসির বেসরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনের একমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের নেতৃত্বে মাওবাদীদের একটি দল পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম সীমান্ত সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল। সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও ছিল বলে পুলিশের দাবি।
তিন মাওবাদী নেতার গ্রেপ্তারকে তাই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আকাশ ও শচীন-সহ অন্য মাওবাদী নেতাদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা।